আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, এক-এগারোর সরকারের সময় যেসব অমানবিক ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর নেপথ্যে মূল মহানায়ক ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।
রবিবার ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মাসুদ উদ্দিনকে গতকাল শনিবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ উদ্দিন যেসব তথ্য দিয়েছেন, সেগুলো তাঁরা যাচাই–বাছাই করছেন।
ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, এক-এগারোর যে সরকারটি ছিল, সেখানে মাসুদ উদ্দিন বা আরও কয়েকজনকে ‘ডিফ্যাক্টো গভর্মেন্ট’ (কার্যত সরকার) বলা হতো। পুরো সরকারটাই তারা চালাতেন। সেই কারণে তখনকার সময়ে যেসব অমানবিক ঘটনা ঘটেছে, মানবতাবিরোধী যেসব অপরাধের ঘটনা ঘটেছে, এগুলোর নেপথ্যে মূল মহানায়ক ছিলেন তিনি (মাসুদ উদ্দিন)। সে কারণে তারা (ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন) জিজ্ঞাসাবাদ করে যে তথ্য পেয়েছে, আরও হয়তো তথ্য পাওয়া যাবে, যে কথাগুলো তিনি বলেছেন, সেগুলো তারা যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে। যদি প্রয়োজন হয় তাকে আবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
গত বৃহস্পতিবার মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় গ্রেফতার দেখায় ট্রাইব্যুনাল-২। একই দিন মাসুদ উদ্দিনকে এক দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়।
আরেক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মাসুদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে এক-এগারোর সময়কার অভিযোগ আছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনাতেও তার সংশ্লিষ্টতা আছে। শেখ হাসিনার অনেক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা আছে। সবকিছুই তারা খোঁজখবর নিচ্ছেন। তারা ইনভেস্টিগেশনে (তদন্তে) নিয়ে আসছেন সবকিছু।

