একুয়েডরের স্বপ্নের সারথি মোইসেস কাইসেদো

0
একুয়েডরের স্বপ্নের সারথি মোইসেস কাইসেদো

মাঠের মাঝখানটা নিজের দখলে রাখাই তার সহজাত প্রবৃত্তি, তবে দলের প্রয়োজনে রাইট-ব্যাক হিসেবেও সমান দক্ষতায় সামলাতে পারেন রক্ষণ। সম্ভাবনাময় এক প্রতিভা থেকে মাত্র ২৪ বছর বয়সেই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রভাব বিস্তারকারী তারকায় রূপান্তরিত হওয়া এই ফুটবলারের নাম মোইসেস কাইসেদো। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে এখন তিনি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ রাঙানোর অপেক্ষায়। উত্তর আমেরিকার আসন্ন বিশ্ব আসরে একুয়েডর কতদূর যাবে, তার অনেকটাই নির্ভর করছে এই মিডফিল্ড জেনারেলের ওপর।

কাইসেদোর ফুটবলার হয়ে ওঠার গল্পটা শুরু হয়েছিল স্বদেশের ক্লাব ইন্দিপেনদিয়েন্তে দেল ভায়েতে। তার প্রতিভার বিচ্ছুরণ দেখে তৎকালীন কোচ মিগেল রামিরেস তখনই বুঝেছিলেন, এই ছেলে ফুটবলে রাজত্ব করতে আসছে। ২০১৯ সালে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক হওয়ার পর রামিরেস তাকে প্রাথমিকভাবে ‘নম্বর এইট’ পজিশনে খেলাতেন। তবে ইউরোপের ফুটবলে পা রাখার পর কাইসেদো নিজেকে একজন পরিপূর্ণ মিডফিল্ডার হিসেবে গড়ে তুলেছেন, যাকে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা হিসেবে গণ্য করা হয়। ২০২১ সালে ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়নে যোগ দেওয়ার পর প্রথম দিকে খুব একটা সুযোগ না মিললেও ধারে বেলজিয়ামে খেলে আসার পর তার ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। আর্সেনালের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি প্রিমিয়ার লিগে নিজের জায়গা পাকা করেন এবং পরবর্তী মৌসুমে দলের অপরিহার্য সদস্যে পরিণত হন।

ব্রাইটনের চোখধাঁধানো পারফরম্যান্সের সুবাদেই ২০২৩ সালে ব্রিটিশ ট্রান্সফার ফির রেকর্ড ভেঙে চেলসিতে নাম লেখান কাইসেদো। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের ক্লাবটির হয়ে ২০২৪-২৫ মৌসুমে উয়েফা কনফারেন্স লিগ এবং ২০২৫ সালের ক্লাব বিশ্বকাপ জয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। চেলসির জার্সিতে প্রিমিয়ার লিগে শততম ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা ঝুলিতে পুরে তিনি এখন লড়ছেন দেশের হয়ে। সতীর্থ এন্সো ফের্নান্দেস তাকে একজন ‘পরিপূর্ণ ফুটবলার’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, যিনি বল কেড়ে নিতে যেমন পটু, তেমনি সৃজনশীল পাস আর শক্তিশালী শটে প্রতিপক্ষকে কাঁপিয়ে দিতে পারেন। সাবেক কোচ এন্টসো মারেস্কা তাকে একজন ‘আদর্শ খেলোয়াড়’ মনে করেন, কারণ কাইসেদো নিজে ভালো খেলার পাশাপাশি চারপাশের সতীর্থদের খেলাকেও উন্নত করে তোলেন। একুয়েডরের বর্তমান কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাচেসেও তার মাঠের বিশাল পরিধি আর দ্রুত পজিশন পুনরুদ্ধারের ক্ষমতার প্রশংসা করেছেন।

পরিসংখ্যানের পাতায়ও কাইসেদোর অর্জন ঈর্ষণীয়। ২০২২ বিশ্বকাপে সেনেগালের বিপক্ষে গোল করে মাত্র ২১ বছর বয়সে একুয়েডরের হয়ে বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড গড়েন তিনি। এ ছাড়া ২০২৫ সালের ক্লাব বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ জিতে নেন টুর্নামেন্টের তৃতীয় সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘ব্রোঞ্জ বল’। কাতার বিশ্বকাপে ২১ বছর বয়সেই তিনি ছিলেন দলের সেরা পারফরমার, যেখানে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই তিনি শুরুর একাদশে ছিলেন। যদিও সেনেগালের কাছে হেরে সেবার বিদায় নিতে হয়েছিল, তবে সেই অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করেই এবার বড় কিছুর স্বপ্ন দেখছেন এই মিডফিল্ডার।

আগামী ১৪ জুন কোত দি ভোয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে একুয়েডরের ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে। ‘ই’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ কুরাসাও ও শক্তিশালী জার্মানি। ২০০৬ সালের শেষ ষোলোর রেকর্ড ছাপিয়ে নিজেদের ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ কাটানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন কাইসেদো। 

ফুটবল বিশ্বের নজর এখন এই একুয়েডরীয় তারকার দিকে, যিনি তার সৃজনশীলতা আর লড়াকু মানসিকতা দিয়ে লাতিন আমেরিকার এই দেশটিকে নিয়ে যেতে চান সাফল্যের শিখরে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here