যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে আলোচনা শুরু হলেও দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার না করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। গতকাল রবিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ এ তথ্য জানিয়েছেন। বিবৃতিটি প্রকাশ করেছে ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল।
লেবাননের ওই অঞ্চলকে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় জনবসতির সুরক্ষায় ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন কাটজ। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং আমি বিষয়টি ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছি। ইসরায়েল লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চল থেকে সরে আসবে না। হিজবুল্লাহর হুমকি মোকাবিলায় আইডিএফ-এর ওপর অতীতে বা বর্তমানে কোনো বিধিনিষেধ ছিল না এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না।’
এর আগে গত শুক্র ও শনিবার লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর বড় ধরনের সামরিক হামলা পরিচালনা করে। ওই দুই দিনে লেবাননের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ২০০টিরও বেশি হামলা চালায়। যদিও ইসরায়েলের দাবি ছিল, এই হামলাগুলো হিজবুল্লাহর স্থাপনা লক্ষ্য করে করা হয়েছে। তবে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, হামলার বড় অংশই আঘাত হেনেছে বেসামরিক অবকাঠামো ও ঘরবাড়িতে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র দুই দিনের এই ভয়াবহ হামলায় ১০৫ জন নিহত এবং ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া লেবাননের সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত প্রায় চার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। একই সঙ্গে আহত হয়েছেন অনন্ত ১২ হাজার মানুষ।
এ অবস্থায় বর্তমানে সুইজারল্যান্ডে শুরু হওয়া মার্কিন-ইরান শান্তি আলোচনা এই অঞ্চলের সংঘাত থামাতে কতটা ভূমিকা রাখতে পারবে, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে প্রথম দফার আলোচনা উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতির মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে। মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। দুই পক্ষ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং লেবাননে সামরিক অভিযান সমাপ্তির লক্ষ্যে ‘সংঘাত নিরসন সেল’ গঠনে সম্মত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের বিশাল এলাকা নিজেদের দখলে রেখেছে, যার একটি অংশ তারা কয়েক দশক ধরে নিয়ন্ত্রণ করছে। বাকি অংশ ২০২৩-২০২৪ সালের যুদ্ধের সময় নতুন করে দখল করে।

