ইসরায়েলের পানি শোধন ও লবণাক্ততা দূরীকরণ প্ল্যান্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ‘জায়নসিফন’ নামক একটি নতুন ম্যালওয়্যার দিয়ে সাইবার হামলা চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন সাইবার নিরাপত্তা গবেষকরা। ডার্কট্রেসের প্রতিবেদেন অনুযায়ী, গত বছরের জুন মাসে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার ১২ দিনের যুদ্ধের পরপরই এই ক্ষতিকর সফটওয়্যারটি প্রথম নজরে আসে।
বর্তমানে এটি নির্মাণাধীন অবস্থায় থাকলেও গবেষকরা জানিয়েছেন, এর মূল লক্ষ্য হলো ইসরায়েলের নির্দিষ্ট আইপি অ্যাড্রেস রেঞ্জ ব্যবহার করে ওই অঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানো। এই ম্যালওয়্যারটি মূলত স্থানীয় সাবনেটে থাকা অপারেশনাল টেকনোলজি বা ওটি সিস্টেমগুলো স্ক্যান করে এবং মডবাস বা ডিএনপিথ্রির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রোটোকলের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করে ক্লোরিনের মাত্রা ও পানির চাপের মতো স্পর্শকাতর প্যারামিটারগুলো পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে।
গবেষণায় দেখা গেছে, জায়নসিফন ম্যালওয়্যারটির ভেতরে ইরান, ফিলিস্তিন এবং ইয়েমেনের পক্ষে রাজনৈতিক বার্তা লুকানো রয়েছে। এটি কেবল তখনই সক্রিয় হয় যখন এটি নিশ্চিত হয় যে আক্রান্ত কম্পিউটারটি ইসরায়েলের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে এবং কোনো পানি শোধন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। তবে বর্তমান সংস্করণে কিছু ত্রুটি থাকায় এটি লক্ষ্যবস্তু সঠিকভাবে শনাক্ত করতে হিমশিম খাচ্ছে বলে গবেষকরা ধারণা করছেন।
এটি ইউএসবি বা রিমুভেবল মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম এবং যদি কোনো ডিভাইসে এটি নিজের কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ না পায়, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেকে ধ্বংস করে ফেলে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি বড় ধরনের নাশকতার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
এদিকে এই ঘটনার পাশাপাশি ‘রোডকিল’ নামক নোড-জেএস ভিত্তিক একটি নতুন ইমপ্ল্যান্টের সন্ধান পেয়েছে ব্ল্যাকপয়েন্ট সাইবার। এটি আক্রান্ত নেটওয়ার্কে দীর্ঘমেয়াদী প্রবেশাধিকার বজায় রাখতে এবং সাধারণ নেটওয়ার্ক ট্র্যাফিকের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে ব্যবহার করা হয়।
অন্যদিকে জেনারেল ডিজিটাল ‘অ্যাংগ্রিস্পার্ক’ নামে আরেকটি রহস্যময় ব্যাকডোরের তথ্য প্রকাশ করেছে যা যুক্তরাজ্যে শনাক্ত হয়েছে। অত্যন্ত জটিল কোডিং এবং ভার্চুয়াল মেশিন ব্যবহারের মাধ্যমে তৈরি এই ম্যালওয়্যারটি দীর্ঘ এক বছর সক্রিয় থাকার পর গত জুনে হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের উচ্চ প্রযুক্তির ম্যালওয়্যারগুলো আধুনিক সাইবার যুদ্ধ এবং কৌশলগত অবকাঠামো ধ্বংসের ক্ষেত্রে হ্যাকারদের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতারই জানান দিচ্ছে।
সূত্র: দ্য হ্যাকার নিউজ

