ইরান যে আমাদের হাজার হাজার সেনাকে উড়িয়ে দিল, সেটার কী হবে: ট্রাম্প

0
ইরান যে আমাদের হাজার হাজার সেনাকে উড়িয়ে দিল, সেটার কী হবে: ট্রাম্প

ইরানের মিনাবে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে বিমান হামলার ঘটনার দায় এড়াতে গিয়ে উল্টো তেড়ে উঠলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ফেব্রুয়ারি মাসের ওই প্রাণঘাতী হামলায় ১৭৫ জনেরও বেশি শিশু ও শিক্ষক নিহত হওয়ার ঘটনাটি ‘ইচ্ছাকৃত নয়’ দাবি করে ট্রাম্প প্রশ্ন তুলেছেন, “তারা (ইরান) যে হাজার হাজার সেনাকে উড়িয়ে দিল, সেটার কী হবে?” ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের সমাপনী সংবাদ সম্মেলনে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

বুধবার ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাইন্সে জি-৭ বৈঠকের ফাঁকে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে নিউ ইয়র্ক টাইমসের হোয়াইট হাউস প্রতিনিধি জোলান কান্নো-ইয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্টকে প্রশ্ন করেন, যুদ্ধের প্রথম দিনে শতাধিক শিশু নিহতের ঘটনায় তাঁর প্রশাসনের কাউকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে কিনা।

এই প্রশ্নে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, “এখন এই সময়ে এসে এমন প্রশ্ন করাটা বেশ অদ্ভুত। কারণ আমরা অনেক আগের একটা বিষয় নিয়ে কথা বলছি। তবে ওই কাজ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে করেনি।” এরপরই ইরানের দিকে আঙুল তুলে ট্রাম্প পাল্টা অভিযোগ করেন, “ইরান যে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করল, গাড়ি বোমায় আমাদের হাজার হাজার সেনাকে উড়িয়ে দিল, সেটার কী হবে?”

যুদ্ধে ভুলত্রুটি হতেই পারে উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “যুদ্ধ মানেই নির্মমতা। বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। আমি আগামীকালই এ সংক্রান্ত রিপোর্ট পেতে পারি। তবে এ বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে প্রশ্ন করাই শ্রেয়, কারণ পেন্টাগন এটি তদন্ত করছে।”

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই দক্ষিণ ইরানের মিনাবের ‘শাজারেহ তাইয়্যেবাহ এলিমেন্টারি স্কুল’ নামক একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, এই ভয়াবহ হামলায় ১২০ জন শিশু ও ২৬ জন শিক্ষকসহ ১৭৫ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘স্কাই নিউজ’ ইতিমধ্যে নিহতদের মধ্যে ১৫২ জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে, যাদের বয়স ৬ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে।

যুদ্ধের শুরুর দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছিলেন যে এই হামলার জন্য ইরান নিজেই দায়ী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রাথমিক অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও পেন্টাগনের তথ্যে উঠে আসে, মার্কিন বাহিনীই সম্ভবত এই হামলার জন্য দায়ী। মার্কিন গোয়েন্দারা পুরোনো তথ্য ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করায় এই ভুলটি ঘটে থাকতে পারে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অবশ্য জানিয়েছেন, বালিকা বিদ্যালয়টি ইরানের একটি সক্রিয় ক্রুজ মিসাইল ঘাঁটি এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) একটি স্থাপনার ঠিক পাশে হওয়ায় তদন্ত প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল ছিল। তবে তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং এর ফলাফল ট্রাম্প মেনে নেবেন বলে জানিয়েছেন।

সূত্র: স্কাই নিউজ 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here