ইরানের হাতে বর্তমানে প্রায় ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যাকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপাদান হিসেবে বিবেচনা করছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। যদিও তেহরানের দাবি, শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালু করেছিল।
এই ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়েই এখন মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতি, যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ইরানের নিরাপত্তা কৌশলকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সম্ভাব্য যেকোনো চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানকে তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে হবে। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রস্তাব দিয়েছেন, ইরান চাইলে তাদের ইউরেনিয়াম নিজেদের দেশে নিয়ে যেতে প্রস্তুত মস্কো।
এদিকে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও। তিনি দাবি করেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সরিয়ে নিতে হবে এবং সেটি না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলা যাবে না।
সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। কারণ ইরানে এখনো সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। সেগুলো ইরান থেকে সরিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোও অকেজো করতে হবে।
কীভাবে ইউরেনিয়াম সরানো হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেখানে গিয়ে ইউরেনিয়াম বের করে আনতে হবে।
নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থানও একই ধরনের। তবে সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি।
ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সামরিক অভিযানের পরিবর্তে একটি সমঝোতা চুক্তিকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, চুক্তির মাধ্যমে যদি বিষয়টি সম্ভব হয়, সেটাই সবচেয়ে ভালো উপায়।
একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরানের সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠী এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং দেশটি পুরোপুরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বন্ধ করেনি। যদিও ইসরায়েল তাদের সেই সক্ষমতা অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পেরেছে বলে দাবি করেন তিনি।

