ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করা আসলেই সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল কি না, তা নিয়ে খোদ ইসরায়েলের ভেতরেই তীব্র বিতর্ক ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দেশটির একজন শীর্ষস্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, যুদ্ধের রাজনৈতিক পরিণতি যদি আগে থেকে জানা থাকত, তবে এই অভিযান শুরু করার বিষয়টি অত্যন্ত সন্দেহজনক হতো। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘আই-২৪ নিউজ’-এ দেওয়া ওই কর্মকর্তার এমন বক্তব্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকেই ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে ক্ষোভ ও সমালোচনা তীব্র হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এটাই ইসরায়েলের জন্য বড় কৌশলগত পরাজয়। দেশটির প্রবীণ সামরিক সাংবাদিক অ্যালন বেন ডেভিড এই চুক্তিকে ইসরায়েলের জন্য একটি ‘নাটকীয় ও সুদূরপ্রসারী’ ধাক্কা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা আগামী প্রজন্মের ওপর প্রভাব ফেলবে।
তবে ঘরে-বাইরে তীব্র সমালোচনার মুখেও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নস্যাৎ করা এবং ইসরায়েলকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করাই ছিল তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য। ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামের ওই ১২ দিনের অভিযানের মাধ্যমে ইরানের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ইসরায়েলকে একটি নিশ্চিত পারমাণবিক হুমকি থেকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে এবং এই অঞ্চলে হুমকি মোকাবিলায় তাঁর সরকার কাজ চালিয়ে যাবে। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই আশ্বাসের পরও সামরিক ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ কমেনি। অনেকেই মনে করছেন, এই ব্যয়বহুল ও অনিষ্পন্ন যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত তেহরানকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে।
মিডলইস্ট আই

