ইরানের ধাক্কায় শেষ হচ্ছে মার্কিন এমকিউ-নাইন রিপার ড্রোনের যুগ?

0
ইরানের ধাক্কায় শেষ হচ্ছে মার্কিন এমকিউ-নাইন রিপার ড্রোনের যুগ?

আন্তর্জাতিক সামরিক অঙ্গনে যুগান্তকারী পরিবর্তনের আভাস দিয়ে শেষ হতে চলেছে মার্কিন বিমান বাহিনীর ঐতিহ্যবাহী ‘এমকিউ-নাইন রিপার’ ড্রোনের একচ্ছত্র আধিপত্য। ইরান ও ইয়েমেনে সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও সামরিক অভিযানে বিপুল সংখ্যক ড্রোন ধ্বংস হওয়ার পর, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এখন রিপারের চেয়ে অনেক সস্তা, সহজে তৈরিযোগ্য এবং যুদ্ধক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ নতুন প্রজন্মের ড্রোন বা মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ইউএভি) তৈরির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মার্কিন বিমান বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা ওয়াশিংটনে এক শুনানিতে প্রকাশ করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযানে মার্কিন বাহিনী অন্তত দুই ডজন (২৪টি) অত্যাধুনিক এমকিউ-নাইন রিপার ড্রোন হারিয়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডারে সহজে ধরা পড়ে যাওয়া এবং ধীরগতির কারণে এই ড্রোনগুলো একের পর এক ভূপাতিত হয়েছে। এর ফলে মার্কিন বিমান বাহিনীর সচল রিপার ড্রোনের সংখ্যা কমে মাত্র ১৩৫টিতে দাঁড়িয়েছে। এই সংখ্যা তাদের ন্যূনতম যুদ্ধকালীন প্রয়োজনীয়তার চেয়ে অনেক কম।

আর্থিক মূল্যের দিক থেকে বিচার করলে, প্রতিটি ড্রোনের মূল্য তার ভেতরের উন্নত সেন্সর ভেদে ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে। ফলে গত কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধেই প্রায় ৭০ থেকে ৮০ কোটি ডলারের ড্রোন হারিয়ে বড় ধরণের আর্থিক ও কৌশলগত ধাক্কা খেয়েছে মার্কিন সামরিক খাত।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এমকিউ-নাইন রিপার ড্রোনটি মূলত এমন সব অঞ্চলের আকাশসীমার জন্য তৈরি করা হয়েছিল যেখানে প্রতিপক্ষের শক্তিশালী বিমান বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই। কিন্তু ইরান বা ইয়েমেনের মতো মধ্যম সারির সামরিক শক্তির আধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে এই ব্যবস্থার দুর্বলতা পুরোপুরি প্রকাশ পেয়ে গেছে।

এই চরম বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে মার্কিন বিমান বাহিনীর পরিকল্পনা ও কর্মসূচি বিষয়ক ডেপুটি চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ক্রিস্টোফার নিয়েমি গত ১১ মে নতুন একটি রিকোয়ারমেন্ট বা চাহিদাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। পেন্টাগনের এই নতুন উদ্যোগটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘অ্যাট্রিশেবল আইএসআর এয়ারক্রাফট’ প্রোগ্রাম। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো এমন এক ধরনের মাঝারি উচ্চতার দীর্ঘস্থায়ী ড্রোন বা ইউএভি তৈরি করা, যা হবে মডুলার প্রযুক্তিসমৃদ্ধ। অর্থাৎ, ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে পাঠানোর আগে ড্রোনটি থেকে অত্যন্ত ব্যয়বহুল সেন্সরগুলো খুলে রাখা যাবে, যাতে এটি শত্রুর আঘাতে ধ্বংস হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বড় কোনো আর্থিক ক্ষতি না হয়।

মার্কিন কর্মকর্তারা আইনপ্রণেতাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, তারা আপাতত বহরে থাকা পুরনো ড্রোনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কিছু দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছেন, তবে দীর্ঘমেয়াদে ২০২৭ সালের পর এমকিউ-নাইনএ মডেলের পেছনে আর কোনো বাজেট বরাদ্দ রাখা হচ্ছে না। 

সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন বিমান বাহিনীর এই সিদ্ধান্ত আধুনিক ড্রোন যুদ্ধের কৌশলে একটি বড় ধরনের রূপান্তর। ভবিষ্যৎ যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন নীতি এখন দামি ও ভারী ড্রোনের চেয়ে কম খরচে বিপুল সংখ্যক এমন ড্রোন ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে, যা ধ্বংস হলেও যুদ্ধের সামগ্রিক কৌশলে কোনো বড় প্রভাব পড়বে না।

সূত্র: ইউরোশিয়ান টাইমস 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here