সাহিত্যের আঙিনায় কিছু লেখক আসেন কোলাহল তুলতে, আবার কিছু লেখক নিঃশব্দে এসে পাঠকের হৃদয়ের খুব কাছে বসে গল্পের সূক্ষ্ম জাল বুনে যান। আশানুর রহমান সেই দ্বিতীয় দলের একজন। তার সদ্য প্রকাশিত বই ‘প্রথম প্রেম’ ও ‘ছায়ার আঙিনা’ হাতে নিলেই মনে হয়-বৃষ্টিভেজা এক বিকেলে জানালার পাশে বসে ধোঁয়া ওঠা এক কাপ চায়ের সঙ্গে নিজের ভেতরের নিঃশব্দ কথাগুলোর মুখোমুখি হচ্ছি।
প্রথমা প্রকাশন থেকে প্রকাশিত এই বইটি মূলত দুটি স্বতন্ত্র নভেলা বা দীর্ঘ গল্পের সংকলন। নাগরিক জীবনের ধূসর বাস্তবতাকে লেখক এখানে মায়াবী জলরঙে রাঙিয়ে তুলেছেন।
বইটির প্রথম নভেলা ‘প্রথম প্রেম’। শিরোনাম শুনে যে কোনো পাঠকের মনে বয়ঃসন্ধির হালকা-চপল প্রেমকাহিনির প্রত্যাশা জাগতে পারে। কিন্তু আশানুর রহমান এখানে প্রেমের এক ভিন্ন ব্যাকরণ নির্মাণ করেছেন।
গল্পটি আবর্তিত হয়েছে বৃষ্টিভেজা ঢাকাকে কেন্দ্র করে-ইংরেজি বিভাগের মধ্যবয়সী অধ্যাপক আরমান হোসেন, তার ছাত্রী মায়া এবং মায়ার মা, করপোরেট ব্যক্তিত্ব নাজনীন-এই তিন চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনকে ঘিরে।
দ্বিতীয় নভেলা ‘ছায়ার আঙিনা’ আরও পরিণত ও দার্শনিক। সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক অনন্যা এবং তার স্থপতি স্বামী অরিজিতের আপাত সুখী দাম্পত্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা নীরব হাহাকারকে লেখক অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে উন্মোচন করেছেন। অনন্যা ও তার ছাত্র রোহানের সম্পর্কটিও কোনো প্রচলিত ছাঁচে বন্দী নয়; বরং এটি এক ধরনের নীরব বোঝাপড়া-একাকিত্বকে ভাগ করে নেওয়ার প্রচেষ্টা।

