আবারও ইউএনএইচসিআরের শুভেচ্ছাদূত তাহসান

0
আবারও ইউএনএইচসিআরের শুভেচ্ছাদূত তাহসান

আবারও জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের শুভেচ্ছাদূত নিযুক্ত হলেন জনপ্রিয় তারকা তাহসান খান। এর আগেও সংস্থাটির শুভেচ্ছাদূত ছিলেন তিনি। আজ বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ নবায়ন করা হয়েছে।

তাহসান খান বলেন, ‘রোহিঙ্গারা মায়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় ও নিরাপত্তার খোঁজে আসার পর নয় বছর পার হয়েছে। একটি টেকসই সমাধান না আসা পর্যন্ত তাদের এই দুর্দশার প্রতি আমাদের সহানুভূতিশীল থাকা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘আমি এমন সব পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি, যারা অকল্পনীয় ক্ষতি ও কষ্টের শিকার হয়েছেন। তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি আমাকে অনুপ্রাণিত করে। আমি তাদের গল্পগুলো সবার কাছে তুলে ধরতে চাই।’

বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রথম শুভেচ্ছাদূত হিসেবে ২০২১ সালে নিয়োগ পান তাহসান খান। এরপর থেকেই তিনি সংস্থাটির হয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, জনসম্পৃক্ততা এবং শরণার্থীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করে আসছেন।

বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন বলেন, তাহসান দীর্ঘদিন ধরে শরণার্থীদের পক্ষে একজন নিবেদিত কণ্ঠস্বর। তার সম্পৃক্ততা এমন এক সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধের প্রতিফলন, যা এই সময়ে আমাদের সবার প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, তার চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে পেরে আমরা গর্বিত এবং শরণার্থীদের সুরক্ষা ও আশার প্রসারে তার সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা করি। দশ লাখের বেশি শরণার্থীকে উদারভাবে আশ্রয় দেওয়া এই দেশে এমন একটি কণ্ঠস্বর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গত কয়েক বছরে তাহসান কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে ইউএনএইচসিআরের বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। তিনি শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন, সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং বিশ্ব শরণার্থী দিবসের মতো বৈশ্বিক সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন।

ইউএনএইচসিআরের ৩৬ জন শুভেচ্ছাদূতের একজন হিসেবে তাহসান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। জনসমর্থন গড়ে তোলা এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রয়োজন ও অধিকার তুলে ধরার মাধ্যমে তারা সংস্থাটির কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করেন। ২০২৫ সালে ক্যাম্পের একটি অংশে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন তাহসান।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের বেশির ভাগ কক্সবাজার জেলার ৩৩টি ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পে বসবাস করছেন, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী শিবির হিসেবে পরিচিত।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here