আবর্জনায় ভরাট মাইথারকান্দি খাল, ৫ হাজার বিঘা জমির চাষাবাদ ব্যাহত

0
আবর্জনায় ভরাট মাইথারকান্দি খাল, ৫ হাজার বিঘা জমির চাষাবাদ ব্যাহত

আবর্জনায় ভরাট মাইথারকান্দি খাল। এই খাল আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় ব্যাহত কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার তিন ইউনিয়নের প্রায় ৫ হাজার বিঘা জমির চাষাবাদ। খালটির ভরাট হওয়া অংশ খননের দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, আবর্জনায় খাল এমনভাবে ভরাট হয়েছে, তা খাল না ভাগাড় দেখে বুঝার উপায় নেই। কয়েকজন আবর্জনা ফেলছেন, কাক তা নিয়ে টানাটানি করছে। পাশের সড়কে শিক্ষার্থীরা নাকে হাত দিয়ে পার হচ্ছে।

কৃষি ও পরিবেশ সংগঠক মতিন সৈকত বলেন, মাইথারকান্দি খাল, কালাডুমুর নদ থেকে উৎপত্তি হয়েছে। গৌরীপুর বাজার এবং সুবল আফতাব উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে মাইথারকান্দি, পলুদ্দির পাড়, পেন্নাই, হরিপুর, আমিরাবাদ, ইছাপুর, তিনচিটা, বারিকান্দি, রাঙা সিংগুলিয়া, সুন্দলপুর, জুরানপুর, গোয়ালমারি, মোল্লাকান্দি হয়ে খিরাই নদীতে মিশেছে।

মাইথারকান্দি বড়ো খাল নামেও পরিচিত। আনুমানিক ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ মাইথারকান্দি খাল ৩টি ইউনিয়ন অতিক্রম করেছে। তিন ইউনিয়নের প্রায় ৩০ গ্রামের কৃষক শুকনো মৌসুমে সেচের পানি পাচ্ছেন না, এছাড়া জলাবদ্ধতার কারণেও সময় মতো ফসল আবাদ করতে পারছেন না। খালটির বিভিন্ন জায়গায় যে যার মত করে দখল নিয়ে দূষণ করছে।

আমিরাবাদের বাসিন্দা হানিফ খান বলেন, এই খালটি এক সময়ে জল টলটলে ছিলো। এটি দিয়ে নৌকা চলতো। জেলেরা মাছ ধরতো। কৃষক-এর পানি জমিতে ব্যবহার করতেন। এটি এখন মরা খাল। ১০ বছর ধরে খালটির দুরাবস্থা। খালটিকে বাঁচিয়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

বাসরা গ্রামের বাসিন্দা আলী আহমেদ মিয়াজী বলেন, উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে খালটির অবস্থান। জনগুরুত্বপূর্ণ খালটি দিন দিন মরছে। প্রশাসনের তদারকি থাকলে এই সমস্যা বেশিদিন থাকার কথা নয়। আমরা চাই খালটির জল আবার টলটলে হয়ে উঠুক।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরীন আক্তার বলেন, এটি কয়েকবার পরিষ্কার করা হয়েছে। আবারও আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এদিকে খালটি খনন করার জন্য আমরা আবেদন জানিয়েছি। আশা করছি এটিও পর্যায়ক্রমে খননের আওতায় আসবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here