‘অবিশ্বাস্য এক যাত্রা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

0
‘অবিশ্বাস্য এক যাত্রা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

‘অবিশ্বাস্য এক যাত্রা’ শুধু একটি আত্মজীবনী নয়; এটি একই সঙ্গে ইতিহাস, অভিজ্ঞতা ও মানবিক সংগ্রামের এক অনন্য দলিল। বইটিতে উঠে এসেছে এমন সব বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা, যা অনেক সময় কল্পকাহিনীকেও হার মানায়। যুদ্ধের আকাশ থেকে প্রশাসনের অন্দরমহল পর্যন্ত একজন মানুষের দীর্ঘ পথচলার গল্প এতে তুলে ধরা হয়েছে। দীর্ঘ কর্মজীবন, যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা ও পারিবারিক স্মৃতিচারণ নিয়ে লেখক প্রায় ১০ বছর ধরে বইটি রচনা করেছেন। বইটি তাঁর জীবনের নানা উত্থান-পতন, দায়িত্ববোধ, দেশপ্রেম ও অভিজ্ঞতার নির্যাসে সমৃদ্ধ।

গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অবসরপ্রাপ্ত) এম শওকত ইসলাম জিন্নাহ বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার নারচি গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান। পারিবারিক জীবনেও তিনি মূল্যবোধসম্পন্ন ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তাঁর রচিত আত্মজৈবনিক গ্রন্থ ‘অবিশ্বাস্য এক যাত্রা’র আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে সোমবার (২৫ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় বগুড়ার ফোরস্টার হোটেল নাজ গার্ডেন মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দৈনিক করতোয়ার সম্পাদক মোজাম্মেল হক লালু। সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সভাপতি গণেশ দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু ও সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ। সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সাঈদের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন বইটির লেখক গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) এম শওকত ইসলাম জিন্নাহ, প্রকাশক আহমদ সারওয়ারুদ্দৌলা, বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিশেষ প্রতিনিধি আবদুর রহমান টুলুসহ অন্যরা। এ সময় হোটেল নাজ গার্ডেনের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শোকরানসহ বগুড়ায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে লেখক এম শওকত ইসলাম তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন, যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা ও পারিবারিক স্মৃতিচারণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বইটি মূলত তাঁর জীবনের নানা উত্থান-পতন, দায়িত্ববোধ, দেশপ্রেম ও অভিজ্ঞতার নির্যাস। একজন ফাইটার পাইলট, সামরিক কর্মকর্তা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে জীবনের বিভিন্ন অধ্যায় তিনি বইটিতে তুলে ধরেছেন।

প্রকাশক আহমদ সারওয়ারুদ্দৌলা বলেন, বইটিতে ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে লেখকের দায়িত্ব পালন, যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা, ফাইটার পাইলটদের প্রশিক্ষণ এবং স্কোয়াড্রন জীবনের নানা দিক বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে। পাশাপাশি স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রথম দিককার গঠনপ্রক্রিয়া ও অভ্যন্তরীণ অভিজ্ঞতাও এতে স্থান পেয়েছে।

বক্তারা বলেন, বর্তমান প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধ, সামরিক জীবন ও স্বাধীনতা-পরবর্তী রাষ্ট্রগঠনের নানা অজানা অধ্যায় তুলে ধরতে এ ধরনের আত্মজৈবনিক গ্রন্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একজন প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞ মানুষের স্মৃতিচারণ ইতিহাসের অনেক অনুল্লিখিত দিক সামনে নিয়ে আসে।

জানা যায়, রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের ভেতরের নানা বাস্তবতা, টানাপোড়েন, ষড়যন্ত্র ও প্রতিকূলতার মধ্যেও টিকে থাকার সংগ্রামের কথাও বইটিতে অকপটে তুলে ধরা হয়েছে। নেতৃত্ব, সংকট মোকাবিলা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং মানবিক মূল্যবোধের নানা শিক্ষা বইটিকে শুধু ইতিহাস বা সামরিক বিষয়ে আগ্রহী পাঠকদের জন্য নয়, করপোরেট ও পেশাজীবী মানুষের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে।

লেখক এম শওকত ইসলাম জিন্নাহ ১৯৪০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার নারচি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে বগুড়ার শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে। তিনি বগুড়ার চকযাদু প্রি-প্রাইমারি স্কুল, করনেশন হাই স্কুল ও বগুড়া জিলা স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরে রাজশাহী সরকারি কলেজ ও আজিজুল হক কলেজে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।

লেখকের পরিবার পূর্ব বগুড়ার একটি শিক্ষিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত পরিবার হিসেবে পরিচিত। তাঁর বাবা আবদুস সামাদ ছিলেন ডাক বিভাগের কর্মকর্তা। মা হেমায়েতুন নেছা সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় সন্তানদের যুদ্ধে যেতে উৎসাহিত করার মাধ্যমে তিনি সাহসী ও দেশপ্রেমিক মানসিকতার পরিচয় দেন। লেখকের দাদা মো. শরাফত উল্লাহ আহমেদ ছিলেন অঞ্চলের একজন সুপরিচিত শিক্ষক ও সমাজসেবক। দীর্ঘ সময় তিনি ইউনিয়ন বোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষা, নৈতিকতা ও সমাজসেবার যে পারিবারিক ঐতিহ্যের মধ্যে লেখক বেড়ে উঠেছেন, তার প্রভাব তাঁর জীবন ও কর্মে প্রতিফলিত হয়েছে।

পারিবারিক জীবনেও এম শওকত ইসলাম জিন্নাহ একজন মূল্যবোধসম্পন্ন ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে পরিচিত। তাঁর স্ত্রী মিসেস খুরশিদা শওকাত (নাজমা) দীর্ঘ জীবনের সহযাত্রী। তাঁদের তিন সন্তান নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। পরিবারের নতুন প্রজন্মও দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষা ও বিভিন্ন পেশায় কৃতিত্বের সঙ্গে কাজ করছেন।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা বইটির সফলতা কামনা করেন এবং পাঠকদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতাভিত্তিক গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here