দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অস্ট্রেলীয় মডেল ও টিভি উপস্থাপক এরিন হল্যান্ড এবং ক্রিকেটার বেন কাটিং তাদের প্রথম সন্তান প্রসবের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন। এই দম্পতি গত পাঁচ বছর ধরে সন্তান প্রসবের চেষ্টা করছিলেন এবং ‘সামথিং টু টক অ্যাবাউট’ পডকাস্টে তাদের এই হৃদয়বিদারক তথ্যের কথা তুলে ধরেছেন।
হল্যান্ড জানিয়েছেন, তারা ২০ বার আইভিএফ, পাঁচবার ডিম্বাণু সংগ্রহ, সাতবার ভ্রূণ প্রতিস্থাপন, চার প্রসবের চেষ্টা এবং একবার একটোপিক প্রেগন্যান্সির মতো অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন।
তিনি পডকাস্টের সঞ্চালক সারাহ লে মারকান্ডকে বলেন, আমার মনে হয় বন্ধ্যাত্ব এবং গর্ভপাতের সবচেয়ে কঠিন দিকটি হলো প্রেগন্যান্সি টেস্টে দুটি দাগ দেখার সেই সুন্দর সরলতাটুকু আপনার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়। কারণ প্রথমবার যখন আপনি এটি করেন, তখন আপনি আনন্দে আত্মহারা হয়ে যান, এটি খুবই উত্তেজনাপূর্ণ।
এই টিভি উপস্থাপক বলেন, তারপর দ্বিতীয়বার যখন আপনি এটি করেন, তখন আপনি সতর্কভাবে উত্তেজিত থাকেন। তৃতীয় এবং চতুর্থবারের মধ্যে, আপনার মনে হয় যেন এটি আপনাকে ধোঁকা দিচ্ছে।
গর্ভধারণ নিয়ে হল্যান্ডের উচ্ছ্বাস থাকা সত্ত্বেও, তিনি জানিয়েছেন যে অতীতে বন্ধ্যাত্ব নিয়ে তার সংগ্রামের কারণে তিনি এখনও এই প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে সতর্ক বোধ করছেন। মাত্র নয় মাস আগে, এই অস্ট্রেলিয়ান তারকা একটি অকপট ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তার এই যাত্রার কথা খুলে বলেছিলেন।
ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন, অনেকবার গর্ভপাত, অনেকবার ভ্রূণ প্রতিস্থাপনের ব্যর্থ চেষ্টার পর আজ ছিল অনুসন্ধানী অস্ত্রোপচার, অভ্যন্তরীণ ‘সংস্কার’ এবং আত্মাকে ধ্বংস করে দেওয়া এই অজানা রহস্যের কিছু উত্তর খোঁজার জন্য আবার প্রথম থেকে পরীক্ষা শুরু করার পালা।
তিনি উল্লেখ করেন, বন্ধ্যাত্ব মানে এমন এক অনুভূতি, যেন আপনি এমন একটি ক্লাবের কাঁচের দেয়ালে মুখ চেপে ধরে আছেন, যেখানে আপনি প্রাণপণে প্রবেশ করতে চান, কিন্তু কেউ আপনাকে ঢুকতে দিচ্ছে না। যারা এই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, জীবন কঠিন হতে পারে। কিন্তু প্রিয়, তুমিও কঠিন। ধৈর্য ধরো।
‘সামথিং টু টক অ্যাবাউট’ পডকাস্টের সাম্প্রতিক একটি পর্বে হল্যান্ড তার এবং কাটিং-এর ওপর এই বন্ধ্যাত্বের যাত্রার আর্থিক প্রভাব বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। গর্ভধারণের চেষ্টায় এই দম্পতি যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছেন, ওই সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি হিসাব করে দেখেছি তা ভয়াবহ।এটা দিয়ে বাড়ি কেনার জন্য ডাউন পেমেন্ট দেওয়া যায়। আমরা দেড় লাখ ডলার খরচ করেছি, যা সফল হলে প্রতিটি পয়সা উসুল হবে, কিন্তু প্রায়শই তা হয় না।
এই হৃদয়বিদারক যাত্রার পরেও হল্যান্ড এবং কাটিংয়ের হাল ছেড়ে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। হল্যান্ড জানান,১৪ সপ্তাহ পার হওয়ার আগে পর্যন্ত তার কাছে গর্ভধারণটা বাস্তব বলে মনে হয়নি। এখন ২০ সপ্তাহ পার হওয়ার পর, তিনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করতে শুরু করেছেন।
তিনি বলেন, আমি বাচ্চার নড়াচড়া অনুভব করতে শুরু করেছি। সত্যি বলতে, এটা একটা অলৌকিক ঘটনা।

