সময়ের আগেই দিনাজপুরের বাজারে উঠেছে অপরিপক্ব মাদ্রাজি জাতের লিচু। প্রচণ্ড দাবদাহের কারণে লিচুর গায়ে আগেভাগেই রং চলে আসায় এবং ভালো দাম পাওয়ার আশায় কিছু ব্যবসায়ী এসব অপরিপক্ব লিচু বাজারে নিয়ে আসছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার (১১ মে) দিনাজপুর শহরের নিউ মার্কেট, থানা মোড়, বাহাদুর বাজার, পুলহাটসহ বিভিন্ন উপজেলা বাজারে এসব লিচু বিক্রি হতে দেখা যায়। মৌসুমের প্রথম ফল হিসেবে কৌতূহলবশত অনেক ক্রেতাই এগুলো কিনছেন, যদিও স্বাদে তা টক-মিষ্টি এবং রঙে কাঁচা-পাকা মিশ্রিত।
বর্তমানে প্রতি ১০০টি মাদ্রাজি লিচু বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায়। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, লিচুগুলো এখনও পুরোপুরি পরিপক্ব না হওয়ায় স্বাদে টক লাগছে।
ক্রেতা সবুর চৌধুরী বলেন, ‘নতুন ফল দেখে ১০০টি লিচু কিনলাম। কিন্তু এগুলো এখনও পরিপক্ব হয়নি, খেতে টক-মিষ্টি লাগছে। তবুও মৌসুমি ফল হিসেবে কিনেছি।’
ফলের দোকানের কর্মচারী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘দুই-তিন দিন ধরে বাজারে লিচু উঠেছে। প্রচণ্ড গরমে মাদ্রাজি লিচুর রং দ্রুত এসেছে। তবে বোম্বে, চায়না থ্রি ও বেদনা জাতের লিচু বাজারে আসতে আরও সময় লাগবে।’
মাসিমপুর এলাকার আসাদুজ্জামান লিটন জানান, ‘প্রচণ্ড তাপদাহে লিচু ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং দাগ পড়ে যায়। তাই আগেভাগে কিছু লিচু বিক্রি করে দেওয়া হয়।’
নিউ মার্কেটের বিক্রেতা রানা বলেন, ‘এ বছর প্রথম মাদ্রাজি জাতের লিচু বাজারে এসেছে। ১০০টি লিচু ৩০০ টাকায় বিক্রি করছি।’
থানা মোড়ের বিক্রেতা মো. রাকিব হাসান বলেন, ‘এগুলো এখনো পরিপক্ব হয়নি। তবে বাজারে লিচু উঠেছে—এটা জানান দিতেই আগেভাগে বিক্রি করা হচ্ছে।’
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহকারী উপ-পরিচালক (শস্য) আনিছুজ্জামান বলেন, বর্তমানে বাজারে যে লিচু পাওয়া যাচ্ছে তা কোনোভাবেই পরিপক্ব নয়। এগুলো খাওয়া ঠিক হবে না। পরিপক্ব ও সুস্বাদু লিচু বাজারে আসতে আরও প্রায় ১০–১১ দিন সময় লাগবে।
তিনি আরও জানান, কৃষকদের নিয়ম মেনে লিচু পরিপক্ব হওয়ার পরই বাজারে আনার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

