অনাকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি ও শ্রমিক সংকটে বিপাকে বুড়িচংয়ের কৃষক

0
অনাকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি ও শ্রমিক সংকটে বিপাকে বুড়িচংয়ের কৃষক

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার অধিকাংশ কৃষক বোরো ধান উৎপাদনের ওপর নির্ভর করেই সারা বছরের জীবিকা নির্বাহ করেন। ভালো ফলনের আশায় বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করলেও মৌসুম শেষে এবার তাদের সেই স্বপ্ন ভেঙে যাচ্ছে অনাকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি ও তীব্র শ্রমিক সংকটে।

উপজেলার পয়াতের জলাসহ বিভিন্ন মাঠে পাকা সোনালি ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। কোথাও শ্রমিকের অভাবে ধান কাটা যাচ্ছে না, আবার কোথাও ধান কেটে ঘরে তুললেও রোদ না থাকায় শুকাতে না পেরে নষ্ট হচ্ছে। এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

উপজেলার খাড়াতাইয়া নতুন বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশে হাতে কাস্তে ও লাঠি নিয়ে শতাধিক শ্রমিক কাজের আশায় অপেক্ষা করছেন। উত্তরবঙ্গের কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, রংপুর ও ময়মনসিংহ থেকে আসা এসব শ্রমিকের অনেকেই অপুষ্টিতে ভুগছেন। জীবিকার তাগিদেই তারা ধান কাটার কাজে এসেছেন।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল হামিদ জানান, বর্তমানে এক মণ মোটা ধানের দাম ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। অর্থাৎ একজন শ্রমিকের একদিনের মজুরি দিতে দুই মণ ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে রয়েছে তিন বেলার খাবার, নাশতা ও বিড়ি-সিগারেটের অতিরিক্ত খরচ।

আরেক কৃষক মনির হোসেন বলেন, গত বছর ৯০০-১০০০ টাকায় শ্রমিক পাইছিলাম। এবার খরচ প্রায় দ্বিগুণ। ধানের দাম কম, খরচ বেশি। এভাবে চললে লাভ তো দূরের কথা, খরচই উঠবে না।

শ্রমিকদের দাবি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে তারা বাধ্য হয়েই বেশি মজুরি দাবি করছেন। উত্তরবঙ্গ থেকে আসতে জনপ্রতি ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা গাড়িভাড়া গুনতে হয়। পাশাপাশি কাদা ও পানিতে কাজ করাও অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।

এদিকে অনাকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির কারণে উপজেলার অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় নিচু জমির পাকা ধান ডুবে যাচ্ছে। এতে কৃষকের লোকসানের আশঙ্কা আরও বাড়ছে।

বুড়িচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফরিনা আক্তার বলেন, কৃষি শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় সরকারকে আরও ভর্তুকির মাধ্যমে আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার বাড়াতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে নিচু ও কাদাযুক্ত জমিতে চালানো যায় এমন যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা প্রয়োজন। তাহলে শ্রমিক সংকট অনেকটাই কমবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here