নওগাঁর সাপাহারে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে শহিদুল ইসলাম (৪৭) নামে এক ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার গোয়ালা লক্ষিতলা এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। পরে বুধবার (৪ মার্চ) ভোরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় এজাহারনামীয় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত শহিদুল ইসলাম উপজেলার গোয়ালা খরিবোন গ্রামের মৃত আমির আলীর ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে সাপাহার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, গোয়ালা মাসনাতলা গ্রামের মৃত ইয়াহিয়ার ছেলে মতিবুর ইসলাম (৫৫), মৃত নজর আলী মন্ডলের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৭০), মতিবুর ইসলামের ছেলে আল মামুন (২০), মজিবর রহমানের ছেলে আব্দুর রায়হান (২০)।
এজাহারের বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৈত্রিক সম্পত্তি ভাগ-বন্টন নিয়ে শহিদুলের পরিবারের সাথে প্রতিপক্ষের একটি পক্ষের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা চলছিল। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে শহিদুল তার নিজস্ব অটোচার্জার ভ্যান নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে গোয়ালা লক্ষিতলা এলাকায় পৌঁছালে হামলাকারীরা রাস্তায় বাঁশ ফেলে তার গতিরোধ করে। এরপর তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। শহিদুলের চিৎকারে ভ্যানে থাকা যাত্রী ও স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এদিকে হামলার পর ওই রাতেই প্রতিপক্ষরা পুনরায় দলবদ্ধ হয়ে শহিদুলের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। তারা ঘরের দরজা-জানালা ভাঙচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে এবং বাধা দিতে গেলে নিহতের মা ও দুই পুত্রবধূকে মারধর করে জখম করে।
সাপাহার থানার অফিচার্জ ইনচার্জ (ওসি) আনারুল ইসলাম জানান, নিহতের মায়ের আবেদন আমি পেয়েছি এবং এ বিষয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ ইতমধ্যেই ৪জন আসামীকে গ্রেফতার করে নওগাঁ কোটে চালান করেছে। বাকী আসামীদের গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চালনো হচ্ছে। এলাকায় অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

