কমনওয়েলথ ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডসের মনোনয়ন গ্রহণ শুরু, আবেদন করতে পারবেন বাংলাদেশিরাও

0
কমনওয়েলথ ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডসের মনোনয়ন গ্রহণ শুরু, আবেদন করতে পারবেন বাংলাদেশিরাও

সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা তরুণদের স্বীকৃতি দিতে কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সেলেন্স ইন ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্ক–এর মনোনয়ন গ্রহণ শুরু করেছে।

শুক্রবার (১৫ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কমনওয়েলথ ইয়ুথ প্রোগ্রামের আওতায় দেওয়া এই পুরস্কার, যা জনপ্রিয়ভাবে কমনওয়েলথ ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডস (CYA) নামে পরিচিত, ৫৬টি সদস্যদেশের ১৫–২৯ বছর বয়সী তরুণদের সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনকারীদের এই পুরস্কারে সম্মানিত করে। যারা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) পূরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন তাদের এই পুরস্কার দেয়া হয়। প্রতি বছর একজন সেরা বিজয়ীকে কমনওয়েলথ ইয়াং পারসন অব দ্য ইয়ার ঘোষণা করা হয় এবং আঞ্চলিক বিজয়ী নির্বাচিত হয় আফ্রিকা, এশিয়া, ক্যারিবিয়ান, ইউরোপ ও কানাডা এবং এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে।

এ বছর বাংলাদেশ থেকে মুরাদ আনসারি কমনওয়েলথ ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডস এশিয়া অঞ্চলের বিজয়ী হয়েছেন। তিনি সারা এশিয়ার সব আবেদনকারীদের হারিয়ে বিজয়ী হন এবং প্রায় পাঁচ লাখ টাকার পুরস্কার জিতে নেন। এই অর্জন বাংলাদেশের তরুণ নেতৃত্বকে বৈশ্বিক পর্যায়ে তুলে ধরেছে-এবার আরও বেশি তরুণ সামনে আসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

পুরস্কার ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতা ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ ডে-তে কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েটের ইউটিউব চ্যানেলে সম্প্রচার হবে, যেখানে আগের সব বিজয়ীরা তাদের অভিজ্ঞতা ও জটিল সমস্যার সমাধানে উদ্ভাবনী কাজ নিয়ে আলোচনা করবেন।

কমনওয়েলথের মহাসচিব শার্লি বোচওয়ে বলেন, ‘আমাদের ৫৬টি সদস্যদেশে তরুণরা অনুমতির অপেক্ষা করছে না। তারা টেকসই খামার গড়ছে, জলবায়ু অ্যাপ চালু করছে, শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিচ্ছে, স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে। তারাই পরিবর্তনের রূপকার, আর আমাদের দায়িত্ব তাদের পাশে দাঁড়ানো।’

পুরস্কারের অভিজ্ঞতা ২০২৫ সালের কমনওয়েলথ ইয়াং পারসন অব দ্য ইয়ার ও লাইটএড–এর সিইও স্ট্যানলি আনিগবোগু বলেন, ‌‘পুরস্কার জেতা অবিশ্বাস্য লেগেছিল, নাম ঘোষণার সময় আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি। এই অভিজ্ঞতা অসাধারণ, আমি শুধু অর্থনৈতিক সহায়তা পাইনি, বরং কাজ তুলে ধরার বহু সুযোগও পেয়েছি। নতুন সহযোগিতা ও বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। আমি সবাইকে এতে অংশ নিতে উৎসাহিত করি এখন।’

২০২৬ সালের পুরস্কার প্রথমবারের মতো কমনওয়েলথ অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হবে, যা তরুণ নেতৃত্বকে এগিয়ে নিতে অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করবে। 

কমনওয়েলথের সামাজিক নীতি উন্নয়ন বিভাগের প্রধান লেন রবিনসন বলেন, ‘এ বছর সাফল্যের গল্প তুলে ধরার বিশেষ সুযোগ। উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক, পরিবেশকর্মী, নারী অধিকারকর্মী, স্বাস্থ্য আন্দোলনকারী এবং রাজনৈতিক কর্মী-পূর্ববর্তী বছরগুলোতে এ রকম বহুমুখী তরুণদের আমরা পেয়েছি। এই পুরস্কার তাদের উদ্ভাবনকে বৈশ্বিক মঞ্চে পৌঁছে দেয় এবং প্রকল্প আরও বড় করতে অর্থ সহায়তা করে।’

যে পুরস্কার পান বিজয়ীরা 

সাধারণত কমনওয়েলথ ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড বিজয়ীরা সম্মাননার পাশাপাশি আর্থিক পুরস্কারও পান। সেক্ষেত্রে চূড়ান্ত প্রতিযোগী পান ১০০০ হাজার পাউন্ড। তার সঙ্গে প্রতিটি আঞ্চলিক বিজয়ীরা পান অতিরিক্ত আরও দুই হাজার পাউন্ড। আর যদি কমনওয়েলথ ইয়াং পারসন অব দ্য ইয়ার হয় তবে তিনি পান আরও ২০০০ হাজার পাউন্ডসহ মোট ৫০০০ হাজার পাউন্ড। 

বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে ২০২৬ সালের মার্চে কমনওয়েলথ সপ্তাহে। পুরস্কারের জন্য আবেদন করা যাবে ১৭ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত। আবেদন ও মনোনয়ন অনলাইনে গ্রহণ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here