লুট হওয়া সিন্দুক মিললেও মেলেনি কোটি টাকার স্বর্ণালংকার

0

কুষ্টিয়ার খোকসার প্রধান বাজারের একটি জুয়েলার্স থেকে কোটি টাকার স্বর্ণ ও রুপাসহ লুট হওয়া সিন্দুকটি প্রায় ২৪ ঘন্টা পর পাশ্ববর্তী ঝিনাইদহ জেলা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি খোয়া যাওয়া কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণসহ অন্যান্য সামগ্রী। এ ঘটনায় জড়িত অপরাধী এখনো পর্যন্ত শনাক্ত করাও সম্ভব হয়নি। স্বর্ণ ব্যবসায়ীর সিন্দুক লুটের ঘটনার পর বাজারটির প্রায় ছয় শতাধিক ব্যবসায়ী সন্ত্রাসীদের আতঙ্কে সময় পার করছেন।

শনিবার দুপুরে খোকসা থানা পুলিশে দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টায় প্রাইভেটকারে আসা দুর্বৃত্তরা খোকসা বাজারের প্রধান সড়কের বাংলাদেশ জুয়েলার্সে সাটারের তালা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে প্রায় ৪ মন ওজনের একটি লোহার সিন্দুক তুলে নিযে যায়। এ ঘটনায় শুক্রবার দিন গত রাতে স্বর্ণ ব্যবসায়ী মাসুম বিল্লা বাদি হয়ে খোকসা থানায় একটি মামলা করেছেন।

এদিকে, শনিবার সকালের দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না গ্রামের বেজখালী বাজার সংলগ্ন ব্রিজের নিচ থেকে ভাঙা ও খালি অবস্থায় ওই সিন্দুকটি উদ্ধার করে বেতাই চন্ডীপুর ক্যাম্প পুলিশ।

খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মাঈনুল ইসলাম জানান, মোবাইলে ভিডিও কলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে দিয়ে সিন্দুকটি শনাক্ত করা হয়। পরে বিকেলে খোকসা থানা পুলিশ ঝিনাইদহ পৌঁছে সিন্দুকটি জব্দ করে। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা খোকসা থানার এসআই তুষার রাইয়ান মুঠোফোনে জানান, সিন্দুকটি ভেঙে স্বর্ণসহ মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। সিন্দুকটি বর্তমানে লক অবস্থায় রয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সিন্দুকটি নিয়ে খোকসা থানার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন তারা।

এর আগে, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টায় প্রাইভেটকারে আসার মাত্র ১২ মিনিট ১০ সেকেন্ডের মধ্যে বাংলাদেশ জুয়েলার্সের স্বর্ণ ও রুপা রাখার লোহার প্রধান সিন্দুকটি লুটে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। দুপুরে দোকান খুলতে এলে ঘটনাটি জানতে পারেন ব্যবসায়ী মাসুম বিল্লা।

ভুক্তভোগী স্বর্ণ ব্যবসায়ী মাসুম বিল্লা জানান, প্রতি শুক্রবার দুপুর পর তিনি দোকান খুলতে আসেন। এসে দেখতে পান তার দোকানের একটি সাটারের সবকটি তালা খোলা। দোকানের ভেতরে ঢুকে দেখেন তার প্রায় ৪ মন ওজনের লোহার প্রধান সিন্দুকটি লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

তিনি দাবি করেন, লোহার সিন্দুকটিতে বিভিন্ন কাস্টমারের প্রায় ৪৫-৫০ ভরি সোনা, প্রায় ৩০০ ভরি রুপা, ৩০ হাজার নগদ টাকা রাখা ছিলো। তিনি জানান ক্ষয় ক্ষতি কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিরোদ কুমার রায় বলেন, থানা থেকে সামান্য দূরে স্বর্ণের দোকান থেকে দুর্বত্তরা সিন্দুক লুটে নিয়ে যাওয়ার পর সাধারণ ব্যবসায়ীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। 

খোকসা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতা আলনবি হার্ডওয়ারের মালিক গোলাম ছরোয়ার জানান, শনিবার ব্যবসায়ীদের বৈঠক করার কথা ছিল। কিন্তু হয়নি। বাজারের সব ব্যবসায়ীরাই আতঙ্কে দিন পার করেছেন।  

খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, মামলা হয়েছে। অপরাধী চিহ্ণিত করতে অভিযান চলছে। আশা করছি খুব শিগগিরই এ ব্যাপারে ভালো খবর পাওয়া যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here