ঘোড়ার গাড়িতে ইমামের বিদায়, ৯ লাখ টাকার সংবর্ধনা

0

৩৪ বছর ধরে ইমামতি শেষে ঘোড়ার গাড়িতে রাজকীয়ভাবে বাড়ি ফিরলেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার নতুন কহেলা জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মো. শাজাহান খান। তার বিদায় সফরে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলের শোভাযাত্রা যুক্ত হয়, আর হাত নেড়ে শেষ কর্মজীবনের বিদায় জানান গ্রামবাসীরা।

এর আগে গ্রামবাসীর উদ্যোগে সংবর্ধনা দেওয়া হয় তাকে। বিদায় বেলায় ফুল ছিটিয়ে, ক্রেস্ট দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এলাকাবাসী। ১৯৯১ সালে ৬০০ টাকা বেতনে নতুন কহেলা জামে মসজিদে ইমামতি শুরু করা শাজাহান খানের চাকরির শেষ বেতন ছিল ১৭,৫০০ টাকা। বিদায়ের দিন গ্রামবাসী তার হাতে ৯ লাখ ৩০০ টাকার চেক তুলে দেয়।

বিদায়ী ইমামকে বিদায় জানাতে নতুন কহেলা গ্রাম ছাড়াও আশপাশের গ্রামের লোকজন মসজিদের সামনে ভিড় জমায়। 

জানা গেছে, মাওলানা শাজাহান ঢাকার লালবাগের একটি মাদ্রাসা থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর ১৯৯১ সালে ওয়ার্শী ইউনিয়নের নতুন কহেলা জামে মসজিদে ইমাম ও খতিব হিসেবে যোগদান করেন। কর্মজীবনে তিনি অসংখ্য মানুষকে কুরআন শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি হাজারের অধিক মানুষের জানাজা পড়িয়েছেন।

দীর্ঘ ৩৪ বছর গ্রামের মানুষের পাশে থাকার স্বীকৃতি হিসেবে গ্রামবাসী তাকে এককালীন পেনশন হিসেবে ৯ লাখ ৩০০ টাকা প্রদান করে। গত বছর গ্রামবাসীর অর্থায়নে তাকে ওমরাহ করতে পাঠানো হয়।

তিন শতাধিক মানুষ ৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ইমামকে তার নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেন। এমন বিদায় জানাতে পেরে আনন্দিত নতুন কহেলা গ্রামবাসী। বিদায়ের সময় আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন ইমাম শাজাহান খান।

নতুন কহেলা গ্রামের বাসিন্দা আবুল হাশেম খান বলেন, “ইমাম শাজাহান খান তার কর্মজীবনে গ্রামের মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। বিদায়ের সময় জনস্রোতই প্রমাণ করে, গ্রামবাসীর কতটা ভালোবাসা তিনি অর্জন করেছেন। আমরা একজন যোগ্য ও মানবিক ইমামকে হারালাম।”

বিদায়ী ইমাম মাওলানা মো. শাজাহান খান বলেন, “আমি গ্রামের প্রায় দেড় হাজার মানুষের জানাজা পড়িয়েছি, ৬০০ জনকে কুরআন শিক্ষা দিয়েছি। আল্লাহর রহমতে কাজগুলো করতে পেরেছি, এজন্য শুকরিয়া আদায় করছি। বিদায়ের সময় এলাকাবাসী যে ভালোবাসা দেখিয়েছে, তার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ।”

নতুন কহেলা জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি সেলিম খান বলেন, “এমন বিদায় সমাজে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তিনি এলাকার মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। ইমামের ভবিষ্যৎ জীবনের কথা চিন্তা করেই আমরা তাকে সামান্য হলেও পেনশন দিয়েছি।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here