দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ও ফুলবাড়ীতে তিন আওয়ামীলীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আটককৃতদের রবিবার আদালতে প্রেরণ করা হয়। শনিবার দিবাগত রাতে ঘোড়াঘাট উপজেলার বুলাকীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ১নং ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি তোজাম্মেল হোসেন (৬০)কে হরিপাড়া বাজার থেকে এবং ফুলবাড়ী উপজেলার এলুয়াড়ী ইউনিয়ন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এরশাদ (৩৭) ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাব্বত হোসেন (৫০)কে তাদের নিজ বাড়ী থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত তোজাম্মেল হোসেন ঘোড়াঘাট উপজেলার বুলাকীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ১নং ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি; এরশাদ ফুলবাড়ী উপজেলার এলুয়াড়ী ইউনিয়নের তশিবপুর গ্রামের মৃত. আব্দুল হামিদ চৌধুরীর ছেলে ও তিনি ওই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক; মোহাব্বত হোসেন একই ইউনিয়নের বড়গাছা গ্রামের মৃত. আবুল হোসেনের ছেলে ও তিনি ওই ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
ঘোড়াঘাট থানার ওসি মো. নাজমুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত বছরের ৪ আগস্ট ঘোড়াঘাট পৌরসভার বাসষ্ট্যান্ডে ছাত্র জনতার শান্তিপূর্ণ সমাবেশে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, পেট্রোল বোমা হামলা চালায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
এ ঘটনায় ২৪ আগস্ট থানায় ৪০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৭০-৮০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের হয়। গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগে শনিবার দিবাগত রাতে ফুলবাড়ী উপজেলার হরিপাড়া বাজার থেকে গ্রেফতার করা হয়।
ফুলবাড়ী থানার ওসি এ কে এম খন্দকার মুহিব্বুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার উপর হামলার মামলায় তদন্তপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে দুই ইউনিয়ন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদেরকে দিনাজপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গত বছরের ২১ অক্টোবর রাতে ফুলবাড়ীর কাজিহাল ইউনিয়নের পুখুরী মোড়ে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক জুয়েলের ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনায় পরদিন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বাবা রুহুল আমিন বাদী হয়ে হামলার অভিযোগে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মানিক রতনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। সেই মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে তাদের দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

