তরমুজ, উপরে গাঢ় সবুজ আর ভিতরে টকটকে লাল। যেমন টসটসে রসালো, ঠিক তেমনই মিষ্টি। দেখতেও বেশ আকর্ষণীয়। এবার এমনই তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে রাঙামাটিতে। পাহাড়ে উৎপাদিত এসব তরমুজের চাহিদাও বেশি। দামও বেশি বলছেন ক্রেতারা। তাই হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে উৎপাদিত এসব তরমুজ রফতানি হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ আশপাশের জেলাগুলোতে।
জেলা কৃষিবিভাগে বলছে, উপযুক্ত আবহাওয়া এবং উন্নত চাষাবাদের কারণে রাঙামাটির কয়েকটি উপজেলায় এবছর ঈর্ষণীয় ফলন হয়েছে তরমুজের। তাই লাভের টাকা গুনছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
চট্টগ্রাম থেকে আগত পাইকারি ব্যবসায়ী ইউনুস মিয়া বলেন, রাঙামাটির তরমুজের চাহিদা বেশি চট্টগ্রামে। তাই প্রতিবছর রাঙামাটি থেকে আমরা তরমুজ সংগ্রহ করি। এবারও রাঙামাটির বালুখালী ইউনিয়ন থেকে পাইকারি দরে এক হাজার ৪০০টি তরমুজ নিয়ে আসছি ২ লাখ ৮০০ টাকায়। এরই মধ্যে বিনিয়োগের অংশ উঠে গেছে। লাভের অংশও উঠবে আশা করি। কারণ চাহিদা অনেক।
একই কথা জানান আরেক তরমুজ ব্যবসায়ী ঝুনুক চাকমা। তিনি বলেন, দাম দিয়ে পাইকারি বাজার থেকে তরমুজ কিনে এনেছি। তাই খুচরা বাজারেও দাম একটু বেশি। কারণ কাপ্তাই হ্রদের পানির স্থর কমে যাওয়াতে নৌ পথে তরমুজ শহরে আনতে অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়।
তাই বাধ্য হয়ে দাম দিয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে তরমুজ। তরমুজের দাম কম থাকলে কি হবে, পরিবহন খরচ দ্বিগুণ। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে বড় ও মাঝারি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ২০০ টাকা । আর ছোট আকারের তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১০০ টাকায়।
স্থানীয় ক্রেতা নিহার চাকমা অভিযোগ করে বলেন, বিক্রেতাদের সিন্ডিকেটের কারণে রাঙামাটিতে তরমুজের দাম বেশি। স্থানীয় চাহিদা না মিটিয়ে এসব তরমুজ বাজারজাত করা হচ্ছে বিভিন্ন জেলায়। তাই আমাদের বেশি দামে তরমুজ কিনতে হচ্ছে।
রাঙামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক তপন কুমার পাল জানান, চলতি বছর রাঙামাটি জেলায় ২৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। আর প্রতি হেক্টর জমিতে ৪০ মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গেল বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। এছাড়া উপযুক্ত আবহাওয়া এবং উন্নত চাষাবাদের কারণে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারাও মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সহায়তা করে যাচ্ছেন।