পুনের লোহাগড় দুর্গে ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বড় অগ্রগতি হিসেবে প্রধান অভিযুক্ত সিয়া গোয়েলকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে অপরাধের দৃশ্যপট পুনর্নির্মাণ করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, সিয়া গোয়েল ও তার প্রেমিক চেতন চৌধুরী পরিকল্পিতভাবে কেতন আগরওয়ালকে দুর্গে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা করেছেন।
পুলিশ এখন ঘটনাটির মোটিভ, সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র এবং অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না—এসব দিক খতিয়ে দেখছে। পাশাপাশি পুরোনো বার্তা বা ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইলের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
রবিবার সিয়া গোয়েলকে নিয়ে লোহাগড় দুর্গে গিয়ে ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণ (ক্রাইম সিন রিকনস্ট্রাকশন) করা হয়। পুনে গ্রামীণ পুলিশের সুপারিন্টেনডেন্ট সন্দীপ সিং গিল জানান, অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে পুরো ঘটনার ধারাবাহিকতা পুনর্গঠন করা হয়েছে—কে কোন পথে গিয়েছিল, কোথায় অবস্থান নিয়েছিল এবং কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছিল তা যাচাই করা হচ্ছে।
এর আগে শুক্রবার দুর্গ থেকে একটি মানবাকৃতির বস্তু ফেলে প্রাথমিকভাবে ঘটনাটির পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করে পুলিশ। পরে চেতন চৌধুরীকেও আলাদাভাবে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে তার বক্তব্য যাচাই করা হবে বলে জানানো হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি ভিডিওতে ধারণ করা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে তদন্ত চলাকালে দুর্গে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
তদন্তের অংশ হিসেবে সিয়া গোয়েলের পরিবারকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। শনিবার লোনাভালা গ্রামীণ থানায় তার বাবা প্রবীণ গোয়েল, মা পূজা গোয়েল এবং ভাই সাহিল গোয়েলকে প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর আগে সাহিলকে আলাদাভাবে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। পাশাপাশি বিয়ের মধ্যস্থতাকারী মিত্তাল পরিবারকেও ডাকা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এফআইআরের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী কেতন আগরওয়ালের বাবা বিশাল আগরওয়াল ২৩ জুন অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে বলা হয়, ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গে কেতনকে নিয়ে যান সিয়া। পরে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে তিনি ফোন করে জানান, ছবি তুলতে গিয়ে কেতন দুর্ঘটনাবশত খাদে পড়ে গেছেন।
তবে পরিবারের দাবি, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে ওই স্থান থেকে দুর্ঘটনাবশত পড়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। পরিবারের অভিযোগ, ১৭ জুন রাতে সিয়া হোয়াটসঅ্যাপে কেতনকে জন্মদিন উপলক্ষে লোহাগড় নিয়ে যেতে চাপ দেন এবং পরে তার পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন।
এদিকে ঘটনার বিচার দাবিতে পুনের গাহুঞ্জে এলাকায় মোমবাতি মিছিল করেছে স্থানীয়রা। কেতন আগরওয়ালের বাবা বিশাল আগরওয়াল বলেন, ‘আমাদের ছেলের হত্যার বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।’ তিনি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের নির্ভয়ে এগিয়ে এসে পুলিশকে তথ্য দেয়ার আহবান জানান।

