ইরানে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যেজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আবারও আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান। রবিবার(২৮ জানু) পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার সংঘাত বন্ধে দৃড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
এর আগে ভোরে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর(আইআরজিসি) জানায়, তাদের নৌ ও মহাকাশ বাহিনী কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে যৌথভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই শনিবার মার্কিন বাহিনী ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের ওপর হামলার জবাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসহাক দার বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল লতিফ বিন রাশিদ আল জায়ানির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষরের পর আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা করেন। এছাড়া উভয় পক্ষ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সংলাপ ও কূটনীতি প্রক্রিয়া জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্ততায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরপর গত সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডে উভয় পক্ষ তেহরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ ও নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা করেছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখবে।
গতকাল শনিবার ইসহাক দার ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারের সঙ্গেও কথা বলেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংলাপ ও কূটনীতি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ইসলামাবাদের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকেই পাকিস্তান উভয় দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে।
এপ্রিল মাসে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি শান্তি আলোচনা আয়োজনের পাশাপাশি পাকিস্তান ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতা করেছে এবং দেশগুলোর মধ্যে বার্তা ও শান্তির প্রস্তাব আদান-প্রদানেও ভূমিকা রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকায় কাতারের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পাকিস্তানি কর্মকর্তারাও এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছেন।
সূত্র: আরব নিউজ।

