২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ হতেই সামনে এসেছে নকআউট পর্বের ৩২ দলের তালিকা। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার পরাশক্তিদের পাশাপাশি এবার নজর কেড়েছে আফ্রিকার দেশগুলো। ১০টি আফ্রিকান দলের মধ্যে ৯টিই জায়গা করে নিয়েছে রাউন্ড অব ৩২-এ, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক।
বিশ্বকাপে আফ্রিকার এত বেশি দলের একসঙ্গে নকআউট পর্বে ওঠার ঘটনা এবারই প্রথম। এর আগে ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে আলজেরিয়া ও নাইজেরিয়া—মাত্র দুটি আফ্রিকান দল শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছিল। ১২ বছর পর সেই রেকর্ড অনেকটাই ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
গ্রুপ পর্ব শেষে মরক্কো, দক্ষিণ আফ্রিকা, সেনেগাল, আইভরি কোস্ট, ঘানা, মিসর, আলজেরিয়া, ডিআর কঙ্গো এবং কেপ ভার্দে নিশ্চিত করেছে রাউন্ড অব ৩২। একমাত্র তিউনিসিয়াকেই বিদায় নিতে হয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকেই।
সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কেপ ভার্দে। স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের বিপক্ষে তিনটি ম্যাচই ড্র করে অপরাজিত থেকেই নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে দলটি। কোনো ম্যাচ না জিতেও নকআউটে ওঠার বিরল কীর্তি গড়েছে তারা। ১৯৯৮ সালে চিলির পর বিশ্বকাপে এমন কৃতিত্ব দেখানো প্রথম দল কেপ ভার্দে। দলটির এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা।
চমক দেখিয়েছে ডিআর কঙ্গোও। নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে আফ্রিকার দেশটি। রাউন্ড অব ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।
এছাড়া মরক্কো, সেনেগাল, মিসর, ঘানা ও আলজেরিয়ার মতো দলগুলোও গ্রুপ পর্বে আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স দেখিয়ে নকআউটে উঠেছে। আফ্রিকার দলগুলোর এই সাফল্য বিশ্ব ফুটবলে মহাদেশটির ক্রমবর্ধমান শক্তিরই আরেকটি প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

