চলমান ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ উজবেকিস্তানের বিপক্ষে পর্তুগালের দাপুটে জয়ের ম্যাচটি কেবল ফুটবল মাঠের রেকর্ডেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং মাঠের বাইরেও তৈরি করেছে এক অভূতপূর্ব ও হৃদয়স্পর্শী মুহূর্ত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে একজন বাবা একটি বিশেষ ফুটবল বোর্ডের সাহায্যে তার দৃষ্টিহীন ছেলেকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দ্বিতীয় গোলের পুরো দৃশ্যটি বুঝিয়ে দিচ্ছেন। বাবার হাতের ছোঁয়ায় ফুটবল মাঠের সেই টানটান উত্তেজনা আর গোলের মুহূর্তটি যখন ওই খুদে ভক্তের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তখন তার আনন্দের আর কোনো সীমা ছিল না। উল্লাসে ফেটে পড়া সেই দৃষ্টিহীন শিশুর নিষ্পাপ হাসি কোটি মানুষের হৃদয় জয় করে নিয়েছে।
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে পর্তুগালের ৫-০ গোলের বড় জয়ের এই ম্যাচে ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জোড়া গোল করে সমালোচকদের কড়া জবাব দিয়েছেন। ম্যাচের প্রথমার্ধে জোয়াও ক্যান্সেলোর একটি নিচু এবং গতিময় ক্রস থেকে চমৎকার ফিনিশিংয়ে পর্তুগালকে এগিয়ে নেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। এর কিছুক্ষণ পরেই ব্রুনো ফার্নান্দেসের একটি নিখুঁত থ্রু বল ধরে অত্যন্ত সংকীর্ণ কোণ থেকে বল জালে জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। এই দ্বিতীয় গোলের বিল্ড-আপ বা আক্রমণ তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটিই সেই বাবা তার ছেলের হাতের আঙুল বোর্ডের ওপর ঘুরিয়ে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন, যা শিশুটিকে গ্যালারির বা টেলিভিশনের দর্শকদের মতোই গোলের চূড়ান্ত আনন্দ এনে দেয়।
ইতিহাসের পাতায় এই ম্যাচটি রোনালদোর জন্য এক নতুন মাইলফলক হিসেবে যুক্ত হয়েছে। ২০০৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ দুই দশক ধরে ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য এক কীর্তি গড়েন এই মহাতারকা। একইসঙ্গে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বয়সী গোলদাতা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন এবং পর্তুগিজ কিংবদন্তি ইউসেবিওকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে পর্তুগালের পক্ষে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনটি নিজের করে নিয়েছেন।
বয়স যে কেবলই একটি সংখ্যা, ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই আইকন মাঠের পারফরম্যান্স এবং মাঠের বাইরের এই মানবিক আবেগঘন মুহূর্তের মধ্য দিয়ে তা আবারও প্রমাণ করলেন।

