বিশ্বকাপ উন্মাদনার মাঝেও কেন নীরব ট্রাম্প?

0
বিশ্বকাপ উন্মাদনার মাঝেও কেন নীরব ট্রাম্প?

ফুটবল বিশ্বের এই মহাযজ্ঞে তাকে নিয়মিত দেখা যাবে বলেই ধারণা করেছিলেন অনেকে। কিন্তু টুর্নামেন্টের অর্ধেক সময় পার হয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত মাঠের দর্শক সারিতে দেখা মেলেনি স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্টের। অথচ এরই মধ্যে মার্কিন ফুটবল দল গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচের মধ্যে দুটিতে জয়লাভ করে নকআউট পর্বে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে ফেলেছে। একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে সাধারণত ঘরের মাঠে আয়োজিত এমন বড় আসরের উদ্বোধনী ম্যাচ থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে তার সরব উপস্থিতি প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ ভিন্ন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই নীরবতাকে ঘিরে ক্রীড়াঙ্গন ও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা বিশ্লেষণ। অনেকে এটিকে অবাক করা ঘটনা মনে করলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ট্রাম্পের স্বভাবসুলভ আচরণের সাথে এটি খুব একটা অসামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

অতীতে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাধারণত নিয়মিত কোনো টুর্নামেন্টের সাধারণ ম্যাচগুলোতে উপস্থিত থাকার চেয়ে বড় ইভেন্ট বা ফাইনাল ম্যাচে উপস্থিত থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এছাড়া তার অত্যন্ত ব্যস্ত রাষ্ট্রীয় শিডিউলও এর অন্যতম কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে তিনি ফ্রান্সের জি-সেভেন সামিট এবং ইরানের সাথে গুরুত্বপূর্ণ শান্তি চুক্তির মতো কূটনৈতিক বিষয় নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তবে এর বাইরেও একটি ভিন্ন মত প্রচলিত রয়েছে। দেশটির বড় শহরগুলোতে আয়োজিত ম্যাচগুলোতে জনগণের কাছ থেকে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পাওয়ার আশঙ্কায় প্রেসিডেন্ট হয়তো কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। নিউইয়র্কে এনবিএ ফাইনাল ম্যাচে উপস্থিত হয়ে তাকে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছিল, যা বিশ্বমঞ্চে প্রেসিডেন্টের ভাবমূর্তি নিয়ে তার সহযোগীদের কিছুটা চিন্তিত করে তুলেছে বলে ধারণা করা হয়।

যদিও ব্যক্তিগতভাবে তিনি মাঠে উপস্থিত হননি, তবে সরকারের পক্ষ থেকে তার প্রতিনিধি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ম্যাচগুলোতে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট নিয়মিত দলের খোঁজখবর রাখছেন এবং টুর্নামেন্টের সাথে মানসিকভাবে যুক্ত আছেন। এমনকি প্রথম ম্যাচের আগের দিন তিনি সরাসরি মার্কিন দলের সাথে ফোনে কথা বলে তাদের উৎসাহিত করেছেন।

সবশেষে কোটি টাকার প্রশ্ন হলো, ট্রাম্প কি মাঠে ফিরবেন? ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সাথে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ, যা ডিসেম্বরে আয়োজিত ড্র অনুষ্ঠানের সময় আরো স্পষ্ট হয়েছে। ইনফান্তিনো ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনাল ম্যাচে ট্রাম্পের উপস্থিত থাকার এবং বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। 

তবে হোয়াইট হাউসের ওয়ার্ল্ড কাপ টাস্ক ফোর্সের প্রধান অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ট্রাম্প নাটকীয়তা পছন্দ করেন। তাই ফাইনাল ম্যাচের আগেই সবাইকে চমকে দিয়ে যে কোনো মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট স্টেডিয়ামে হাজির হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের ট্রফি বিতরণ মঞ্চে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতীক্ষিত উপস্থিতি ঘটে কি না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here