হবু স্বামীকে দুর্গ থেকে ফেলে হত্যা: ‘অপরাধী মেয়ে হলেও শাস্তি চায় পরিবার

0
হবু স্বামীকে দুর্গ থেকে ফেলে হত্যা: ‘অপরাধী মেয়ে হলেও শাস্তি চায় পরিবার

পারিবারিক পছন্দে ধুমধাম করে বাগদান হয়েছিল। আগামী নভেম্বরেই বিয়ের সানাই বাজার কথা ছিল। কিন্তু ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনে শহরের কাছে ঐতিহাসিক লোহাগড় দুর্গে বেড়াতে গিয়ে প্রেমিককে সাথে নিয়ে হবু স্বামী কেতন আগরওয়ালকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সিয়া নামে এক তরুণীর বিরুদ্ধে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষোভে ও লজ্জায় ভেঙে পড়েছে অভিযুক্ত সিয়ার নিজের পরিবারও। সিয়ার বাবা-মা স্পষ্ট জানিয়েছেন, অপরাধী যদি তাদের নিজের মেয়েও হয়, তবে কেতনকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, শাস্তি হিসেবে সিয়াকেও ঠিক একইভাবে পুনের ওই দুর্গ থেকে ফেলে দেওয়া হোক।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে পুনেতে জোর তদন্তে নেমেছে স্থানীয় পুলিশ। গত শুক্রবার সিয়ার ভাই সাহিলকে থানায় ডেকে টানা ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এছাড়া সিয়া ও তার প্রেমিক চেতন বর্তমানে ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডে আছেন। ঘটনার রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিশ্চিত হতে পুলিশ লোহাগড় দুর্গের সেই নির্দিষ্ট স্থান থেকে কেতনের আকৃতির একটি ডামি (মানুষের মতো বস্তু) নিচে ফেলে ঘটনার পুনর্নির্মাণ বা মহড়া করেছে। পুনে পুলিশ খতিয়ে দেখছে, ধাক্কাটি চেতন একা দিয়েছিল নাকি সিয়াও তাতে সরাসরি অংশ নিয়েছিল।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুন পুনের লোহাগড় দুর্গে ওপর থেকে নিচে পড়ে মারা যান পুনের বড় ব্যবসায়ী বিশাল আগরওয়ালের একমাত্র ছেলে কেতন আগরওয়াল। প্রথমে এটিকে দুর্ঘটনা মনে করা হলেও পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। কেতনের বাগদত্তা সিয়া গোয়েল তার প্রেমিক চেতন চৌধুরীর সাথে মিলে পরিকল্পিতভাবে কেতনকে হত্যা করেন। এই খবর শোনার পর পুনের ব্যবসায়ী ও সিয়ার বাবা প্রবীণ গোয়েল হৃদরোগে (হার্ট অ্যাটাক) আক্রান্ত হয়ে পুনের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

আগরওয়াল পরিবারের অভিযোগ ছিল, সিয়ার প্রেমের বিষয় জানতে পেরেও গোয়েল পরিবার তা গোপন করেছিল। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে সিয়ার মা পূজা গোয়েল পুনেতে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা চেতন নামের কাউকে চিনতাম না। কেতন আমাদের নিজের সন্তানের মতো ছিল। বিয়ের জন্য বাড়ি সংস্কারের কাজেও সে আমাদের হাত বাড়াতো। এমন একটি ছেলে হারিয়ে আমরা স্তব্ধ। আমাদের মেয়ে যদি এই খুনের সাথে জড়িত থাকে, তবে আমরা তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।” সিয়ার ভাই সাহিলও পুলিশকে জানিয়েছেন, সিয়ার অন্য কোনো সম্পর্ক থাকলে তারা বিয়েটি ভেঙে দিতেন, কিন্তু সিয়া পরিবারকে কিছুই জানাননি।

হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে এবং ঘটনার সাথে পুনে বা অন্য কোনো এলাকার আরও কেউ জড়িত কি না, তা নিশ্চিত হতে দুই পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও বন্ধুদেরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকতে পারে পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here