ভারতীয় উপমহাদেশের কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক সাদাত হাসান মান্টোর আলোচিত ছোটগল্প ঠাণ্ডা গোশত থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত হচ্ছে বাংলাদেশের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ঠাণ্ডা গোশত ২.০। শাহ নেওয়াজ খান সিজু, সুমাইয়া আরজু মুহুর যৌথ প্রযোজনা ও পরিচালনায় নির্মিত চলচ্চিত্রটির শুটিং গত ২১ জুন রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে শেষ হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে চলছে এর পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ।
চলচ্চিত্রটির মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন কাজী নওশাবা, সুমন আনোয়ার, আনিয়াহ আবদিয়াহ তাসনিম, ফাতেমা তুজ জোহরা ইভা, সিফাত বন্যা।
জানা গেছে, এটি মান্টোর মূল গল্পের কোনো রিমেক বা অ্যাডাপটেশন নয়। বরং তাঁর সাহিত্যে উঠে আসা সহিংসতা, নৈতিক সংকট, অপরাধবোধ এবং ডার্ক সাইকোলজির ভাবনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সমকালীন বাংলাদেশের বাস্তবতায় নির্মিত একটি স্বতন্ত্র চলচ্চিত্র।
নির্মাতা শাহ নেওয়াজ খান সিজু বলেন, আজ থেকে ৭৬ বছর আগে সাদাত হাসান মান্টো তাঁর ঠাণ্ডা গোশত গল্পে যে সামাজিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছিলেন, দুঃখজনকভাবে তার অনেক কিছুই আজও বদলায়নি। প্রায় ছয় বছর ধরে তিনি এই গল্প নিয়ে ভাবছেন। মান্টোর মতোই নিজেদের সময়ের অস্বস্তিকর বাস্তবতাকে সৎ, আপসহীন ও আনসেন্সর্ডভাবে চলচ্চিত্রে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তারা।
অভিনেত্রী কাজী নওশাবা বলেন, চরিত্রটির মানসিক দ্বন্দ্ব ও রূপান্তর ফুটিয়ে তোলা তাঁর জন্য ছিল গভীর আবেগের অভিজ্ঞতা। শুটিং শেষ হওয়ার পরও সেই অনুভূতি দীর্ঘ সময় তাঁকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল।
চলচ্চিত্রটির চিত্রগ্রহণ করেছেন রায়হান উদ্দিন। ক্রিয়েটিভ প্রডিউসার ছিলেন শাহ তুষার। সম্পাদনার দায়িত্বে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সম্পাদক রাশাদুজ্জামান সোহাগ।
অপর নির্মাতা সুমাইয়া আরজু মুহু বলেন, নারীদের মানসিক অবস্থান এবং নীরব যন্ত্রণাকে সংবেদনশীলতা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে পর্দায় তুলে ধরাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ শেষ হলে ঠাণ্ডা গোশত ২.০ দেশ বিদেশের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে জমা দেওয়ার পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।

