হলিউডের সোনালি যুগের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী অ্যান ব্লিথ আর নেই। গত বুধবার ৯৮ বছর বয়সে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
প্রখ্যাত সাংবাদিক জর্জ পেনাচিও তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
১৯৪৫ সালের কালজয়ী ক্লাসিক চলচ্চিত্র ‘মিলড্রেড পিয়ার্স’-এ জোন ক্রফোর্ডের স্বার্থপর ও বখে যাওয়া মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে দারুণ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন তিনি। এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য ১৯৪৬ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে সেরা পার্শ্ব-অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার মনোনয়ন পান ব্লিথ।
নিউ ইয়র্কের মাউন্ট কিসকোতে জন্ম নেওয়া এই কৃষ্ণবর্ণা রূপসী শৈশবেই থিয়েটার ও অপেরার সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৪১ সালে ব্রডওয়ে নাটক ‘ওয়াচ অন দ্য রাইন’-এর মাধ্যমে অভিনয়ে পা রাখার পর হলিউডের নজর কাড়েন তিনি। ১৯৪৪ সালে বড় পর্দায় অভিষেকের পর ‘মিলড্রেড পিয়ার্স’ তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পরবর্তী সময়ে তিনি ‘ব্রুট ফোর্স’ (১৯৪৭), ‘দ্য গ্রেট কারুসো’ (১৯৫১), গ্রেগরি পেকের বিপরীতে ‘দ্য ওয়ার্ল্ড ইন হিজ আর্মস’ (১৯৫২) এবং পল নিউম্যানের সঙ্গে ‘দ্য হেলেন মরগান স্টোরি’ (১৯৫৭)-র মতো বহু প্রশংসিত চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে প্রচণ্ড সাহসের পরিচয় দিয়েছিলেন ব্লিথ। ১৯৪৫ সালে একটি বরফ-স্লেডিং দুর্ঘটনায় তার মেরুদণ্ড ভেঙে যায়। দীর্ঘ দেড় বছর হুইলচেয়ার এবং ব্যাক-ব্রেস পরে থাকার পরও তিনি অভিনয় থামিয়ে রাখেননি। ১৯৫৭ সালের পর বড় পর্দা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিলেও তিনি ‘দ্য সাউন্ড অব মিউজিক’ ও ‘সাউথ প্যাসিফিক’-এর মতো জনপ্রিয় মিউজিক্যাল থিয়েটার এবং টেলিভিশনে নিয়মিত কাজ করে গেছেন।
২০০৭ সালে তার চিকিৎসক স্বামী জেমস ম্যাকনাল্টি মারা যান।
মৃত্যুকালে তিনি পাঁচ সন্তান, দশ নাতি-নাতনি এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার প্রয়াণে হলিউডের একটি গৌরবময় অধ্যায়ের অবসান ঘটল।
সূত্র: ভ্যারাইটি

