সুপার কম্পিউটারে চীনের বাজিমাত

0
সুপার কম্পিউটারে চীনের বাজিমাত

সুপারকম্পিউটিংয়ের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় দীর্ঘ নয় বছর পর আবারও শীর্ষে ফিরেছে চীন। শেনঝেন ক্লাউড কম্পিউটিং সেন্টারের তৈরি ‘লাইনশাইন’ নামের একটি নতুন সুপারকম্পিউটার বিশ্বের দ্রুততম কম্পিউটারের তালিকায় এক নম্বরে উঠে এসেছে। 

জার্মানির হামবুর্গে অনুষ্ঠিত আইএসসি ২০২৬ সম্মেলনে এই তালিকার ৬৭তম সংস্করণ ঘোষণা করা হয়, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘এল ক্যাপিতান’ সুপারকম্পিউটারকে পেছনে ফেলে চীনা এই যন্ত্রটি শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট অর্জন করেছে।

লাইনশাইন সুপারকম্পিউটারটি প্রতি সেকেন্ডে ২.১৯৮ এক্সাফলপস গতিতে হিসাব সম্পন্ন করতে সক্ষম। সহজ করে বললে, এটি প্রতি সেকেন্ডে ২.১৯৮ কুইন্টিলিয়ন গাণিতিক হিসাব করতে পারে। এটিই বিশ্বের প্রথম সুপারকম্পিউটার যা প্রথাগত জিপিইউ বা গ্রাফিক্স প্রসেসরের সাহায্য ছাড়াই শুধুমাত্র সিপিইউ আর্কিটেকচার ব্যবহার করে দুই এক্সাফলপসের গণ্ডি অতিক্রম করেছে। শেনঝেন ন্যাশনাল সুপারকম্পিউটিং সেন্টারে স্থাপিত এই যন্ত্রটি চীনের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রসেসর দিয়ে চালিত এবং এটি দেশটির দীর্ঘমেয়াদী প্রযুক্তিগত স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের প্রচেষ্টার একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে ২০১৭ সালের পর থেকে কোনো চীনা সুপারকম্পিউটার এই তালিকার শীর্ষে ছিল না। বিশেষ করে গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্ববাজারে চীনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। এমন এক প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে লাইনশাইনের এই সাফল্যকে বেইজিংয়ের জন্য একটি বড় ভূ-রাজনৈতিক বিজয় হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। এছাড়া এই সিস্টেমটি শুধুমাত্র বৈজ্ঞানিক গবেষণায় নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সংক্রান্ত কাজের জন্যও ডিজাইন করা হয়েছে।

তবে এই সাফল্য নিয়ে প্রযুক্তিবিদদের মধ্যে ভিন্নমতও রয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এটি এআই কাজের জন্য তৈরি যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় টেক জায়ান্টদের (যেমন, গুগল, মাইক্রোসফট, মেটা) সিস্টেমগুলোর সাথে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামেনি। এমনকি তালিকার শীর্ষ এআই বেঞ্চমার্কগুলোতে লাইনশাইনের চেয়ে এল ক্যাপিতান বা অন্যান্য মার্কিন সিস্টেমের কর্মদক্ষতা বেশি দেখা গেছে। তা সত্ত্বেও, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার আশায় চীন যে দীর্ঘদিন পর তাদের গোপন রেখে দেওয়া এই শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারটিকে জনসমক্ষে এনেছে, তা দেশটির ক্রমবর্ধমান সক্ষমতারই জানান দেয়। বেইজিংয়ের এই উদ্যোগ মূলত তাদের নিজস্ব সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার আত্মবিশ্বাসেরই বহিঃপ্রকাশ।

সূত্র: টিআরটি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here