হরমুজে টোল বসাতে উপসাগরীয় দেশগুলোর কোনও সমর্থন নেই: যুক্তরাষ্ট্র

0
হরমুজে টোল বসাতে উপসাগরীয় দেশগুলোর কোনও সমর্থন নেই: যুক্তরাষ্ট্র

উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলো তাদের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রভাব এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও অবাধ বাণিজ্যিক চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে স্পষ্ট নিশ্চয়তা চাইছে।

জিসিসিভুক্ত দেশগুলো মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের মিত্রতার ভিত্তিতে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা বজায় থাকা জরুরি। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে যেকোনও আলোচনার ক্ষেত্রেও তারা নিজেদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায়।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের নির্দিষ্ট কিছু উদ্বেগের কথা যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে। তারা আঞ্চলিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অবহিত থাকতে এবং সম্পৃক্ত থাকতে চায়।

রুবিও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেবে না বা এমন কোনও প্রতিশ্রুতি দেবে না, যা উপসাগরীয় অংশীদারদের স্বার্থ, দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে আপস করে।”

জিসিসি দেশগুলোর আরেকটি বড় দাবি হলো, ইরানের পাল্টা হামলার কারণে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা পুনর্গঠনের জন্য অর্থায়ন। তাদের বক্তব্য, এই ক্ষয়ক্ষতি এমন এক যুদ্ধের সময় হয়েছে, যে যুদ্ধ তারা চায়নি এবং শুরু থেকেই বন্ধ করার চেষ্টা করেছে; কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা সেই সংঘাতের মাঝখানে পড়ে গেছে।

বৈঠকে হরমুজ প্রণালীর বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। জিসিসি দেশগুলো জানিয়েছে, উপসাগরীয় জলসীমা ব্যবহারের জন্য কোনও ধরনের ফি বা চার্জ আরোপের পক্ষে তারা নয়।

রুবিও বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর অবস্থান খুব স্পষ্ট- হরমুজ প্রণালীর ব্যবহারের জন্য কোনও ধরনের মূল্য আদায়ের বিষয়ে তাদের কোনও সমর্থন নেই। তার মতে, সংঘাতের আগে এই জলপথ যে অবস্থায় ছিল, সেই স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “আমাদের মনে করিয়ে দিতে হবে যে সংঘাতের আগে হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে চলাচল স্বাভাবিক ছিল। এটি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ।”

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও নৌ চলাচলের স্থিতিশীলতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

জিসিসির উদ্বেগ মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা এবং ইরান-সম্পর্কিত যেকোনও ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সমঝোতায় নিজেদের ভূমিকা নিশ্চিত করা নিয়ে। সূত্র: আল-জাজিরা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here