একসময় গ্রামবাংলার বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড় কিংবা পতিত জমি ভরে থাকত বেল, কদবেল, চালতা, আতা, শরিফা, সফেদা, গোলাপজাম, জাম, জামরুল, লটকন, গাব, ডেউয়া, করমচা, আমড়া, কামরাঙা, বিলিম্বি, কাউসহ নানা দেশীয় ফলের গাছে। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেই পরিচিত দৃশ্য এখন অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমানে আম, কাঁঠাল, লিচু, কলা, পেয়ারা ও পেঁপের মতো বাণিজ্যিক ফলের চাষ বাড়লেও বহু দেশীয় ফল বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়েছে। একই সঙ্গে বাজারে আপেল, নাশপাতি, কমলা, মাল্টা, আঙুর, বেদানা, রাম্বুটান, চেরি, অ্যাভোকাডো ও ড্রাগনের মতো বিদেশি ফলের ব্যাপক বিস্তারে দেশীয় ফলের চাহিদাও কমেছে।
রংপুর মহানগরীর কয়েকজন প্রবীণ বাসিন্দা জানান, একসময় গাছ থেকে ফল পেড়ে বা কুড়িয়ে খাওয়ার আনন্দ ছিল গ্রামীণ জীবনের অংশ। এমনকি ফল চুরি করে খাওয়ার শৈশবস্মৃতিও এখনও অনেকের মনে উজ্জ্বল। কিন্তু এখন সেই দৃশ্য প্রায় বিলীন।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এক ফল বিক্রেতা ও রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতালে রোগীর জন্য উপহার হিসেবে অধিকাংশ মানুষ বিদেশি বা দামি ফল নিয়ে যান। অথচ দেশীয় ফল নিয়ে গেলে অনেকেই সামাজিক সংকোচ বোধ করেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের মানসিকতা পরিবর্তন করা প্রয়োজন।
বাংলা একাডেমির সহপরিচালক এবং বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্না বলেন, দেশীয় ফল শুধু পুষ্টিগুণেই সমৃদ্ধ নয়, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পাখিসহ নানা প্রাণীর খাদ্য ও আবাস নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নগরায়ন, নির্বিচারে বৃক্ষনিধন এবং সচেতনতার অভাবে দেশীয় ফলগাছের সংখ্যা ক্রমেই কমছে।
তিনি দেশীয় ফলের গাছ রোপণ ও সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় সরকারি উদ্যোগে ফল জাদুঘর প্রতিষ্ঠার পরামর্শ দেন, যাতে আগামী প্রজন্ম শুধু ছবিতে নয়, বাস্তবেও দেশের ঐতিহ্যবাহী ফলের বৈচিত্র্য দেখতে ও জানতে পারে।

