ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সমঝোতা উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার বা তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
এরই অংশ হিসেবে এরই মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে জানান, রুবিও ও আমিরাতের প্রেসিডেন্টের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন নৌ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, দুই নেতা ‘অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার গুরুত্ব’ নিয়েও আলোচনা করেছেন।
রুবিও বৈঠকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্ব ও সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি ইরানের হামলার মুখে আমিরাতের ‘সাহস ও স্থিতিশীলতার’ প্রশংসা করেন এবং দেশটির নিরাপত্তার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
পিগট বলেন, “পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমিরাতের নেতৃত্ব ও অতুলনীয় সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং তাদের নিরাপত্তার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার পুনরায় নিশ্চিত করেছেন।”
বৈঠকের পর মার্কো রুবিও সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করেছেন। তার পরবর্তী সফরসূচিতে রয়েছে কুয়েত ও বাহরাইন। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে যে উদ্বেগ রয়েছে, তা কমাতেই ওয়াশিংটন মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা জোরদার করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয়। রুবিওর এই সফরকে সেই নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন করে সমন্বয়ের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: সিএনএন

