যুক্তরাজ্যে চলমান তীব্র দাবদাহের কারণে যেসব গাড়িতে কার্যকর শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ বা এসি ব্যবস্থা নেই, সেই সব চালকদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দূরপাল্লার যাত্রা স্থগিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দেশটির মোটরচালকদের শীর্ষস্থানীয় সংগঠন আরএসি এই জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। একইসঙ্গে তীব্র গরমের কারণে রাস্তায় গাড়ি বিকল হওয়ার ঘটনা ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায়, উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে এবং এজন্য চালকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া দফতর বুধ ও বৃহস্পতিবারের জন্য তীব্র দাবদাহের চরম সতর্কতা বা ‘রেড ওয়েদার ওয়ার্নিং’ জারি করার পর এই নির্দেশনা এলো। আরএসি-র সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক মুখপাত্র রড ডেনিস জানান, এ ধরনের চরম সতর্কতা সচরাচর দেখা যায় না, তাই এটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, যেসব গাড়ির এসি ঠিকঠাক কাজ করছে না, তাদের আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ভ্রমণ এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। আর যদি যাত্রা করা একান্তই জরুরি হয়, তবে দিনের অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা সময়ে ভ্রমণ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
চলতি জুনে গাড়ি বিকল হওয়ার সংখ্যার দিক থেকে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সাধারণ সোমবারের তুলনায় গাড়ি বিকল হওয়ার হার প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধারকারী দলগুলো নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
এদিকে আরেক মোটর অ্যাসোসিয়েশন ‘এএ’-এর প্রেসিডেন্ট এডমন্ড কিং জানিয়েছেন, গরমের তীব্রতায় রাস্তা সুরক্ষায় শীতকালের মতো বিশেষ গাড়ি বা গ্রিটার মোতায়েন দেখলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। শীতকালে বরফ গলানোর জন্য এই গাড়িগুলো লবণ ছিটায়, কিন্তু তীব্র গরমে পিচ গলতি ঠেকাতে এগুলোর মাধ্যমে বালুর আস্তরণ দেওয়া হতে পারে। বাতাসে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রির মাঝামাঝি হলে রাস্তার উপরিভাগের তাপমাত্রা প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। গত মাসেই ইস্ট অ্যাংলিয়ার বেশ কিছু রাস্তা গরমে গলে যাওয়ার নজির রয়েছে।
কিং সতর্ক করে বলেন, রাস্তা পুরোপুরি গলে না গেলেও কিছু কিছু অংশ নরম ও আঠালো হয়ে যেতে পারে, যা গাড়ির ব্রেকিং ও স্টিয়ারিংয়ের নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত করতে পারে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও সাইকেলচালকদের জন্য এটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এমন পরিস্থিতি এড়াতে গতি কমানো এবং সামনের গাড়ি থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তীব্র গরমে গাড়ির টায়ারের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে, যার ফলে টায়ার বিস্ফোরণের ঝুঁকি বাড়ে। একইসঙ্গে কোনো অবস্থাতেই পার্ক করা গাড়ির ভেতর পোষ্যপ্রাণীদের রেখে না যাওয়ার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে, কারণ বন্ধ গাড়ির ভেতর নিমেষেই চুল্লির মতো উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।
দাবদাহের এই ক্ষতিকর প্রভাব কেবল সড়কেই সীমাবদ্ধ নেই, রেল যোগাযোগেও ব্যাপক বিপর্যয় ডেকে এনেছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে রেললাইন এবং পয়েন্টের মতো ধাতব যন্ত্রাংশ বিকল হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে নেটওয়ার্ক রেল বেশ কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে লন্ডন প্যাডিংটন থেকে রেডিং রুটে গ্রেট ওয়েস্টার্ন রেলওয়ে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত স্বাভাবিকের চেয়ে কম ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ছাড়া ট্রান্সপোর্ট ফর ওয়েলস এবং সাউথ ওয়েস্টার্ন রেলওয়ে নেটওয়ার্কেও ট্রেন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং যাত্রীদের শেষ মুহূর্তে ট্রেন বাতিল বা সূচি পরিবর্তনের মানসিক প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

