লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হিজবুল্লাহর হামলাকে ইসরায়েল নিজ ভূখণ্ডের ওপর সরাসরি আক্রমণ হিসেবে উপস্থাপন করছে বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের হামাদ বিন খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়ের জননীতি বিভাগের অধ্যাপক সুলতান বারাকাত।
সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বারাকাত বলেন, লেবাননের অভ্যন্তরে ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি দেশটির সেনাদের হিজবুল্লাহর হামলার ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে এবং ইসরায়েলের আত্মরক্ষার দাবিকে ঘিরে এক ধরনের ‘বিভ্রান্তি’ তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, “ইসরায়েল যা করছে তা হলো- হিজবুল্লাহর হামলাগুলোকে এমনভাবে দেখাচ্ছে যেন এগুলো ইসরায়েলের ওপর হামলা। কিন্তু দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।”
বারাকাত জানান, শুরুতে ইসরায়েলের অভিযোগ ছিল- হিজবুল্লাহ সীমান্ত পেরিয়ে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি বদলে গেছে।
তিনি বলেন, “এখন তারা মূলত সেই ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলা করছে, যারা তাদের (লেবাননের) ভূমি দখল করে অবস্থান করছে। এই বিষয়টি অনেক বিভ্রান্তি তৈরি করেছে এবং ইসরায়েলকে লেবাননের ভেতরে বোমা হামলা চালিয়ে যাওয়ার একটি অজুহাত দিয়েছে।”
লেবানন পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে আলোচনায় থাকা ‘ডিকনফ্লিকশন’ বা সংঘাত এড়ানোর সমন্বয় ব্যবস্থা সহায়ক হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন এই বিশ্লেষক।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রকৃত চ্যালেঞ্জ দেখা দেবে যখন বাস্তুচ্যুত লেবানিজ জনগোষ্ঠী নিজেদের বাড়িঘরে ফিরে আসবে। কারণ তখন নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং সামরিক উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে সামরিক অবস্থান, পাল্টাপাল্টি হামলা এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রভাব। এ পরিস্থিতিতে যেকোনও স্থায়ী সমাধানের জন্য রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা উভয় দিকেই সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সূত্র: আল-জাজিরা

