পানি বেড়েছে তিস্তায়, খুলে দেওয়া হয়েছে জলকপাট

0
পানি বেড়েছে তিস্তায়, খুলে দেওয়া হয়েছে জলকপাট

তিস্তায় আবার বৃদ্ধি পাচ্ছে পানি। সোমবার রাত ৯টায় নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা সর্তকীকরণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্রের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম বলেন, তিস্তার পানি রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় ছিল ৫১.৯৭ সেন্টিমিটার; যা বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার নিচে। এ পয়েন্টে নদীর বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার।

সোমবার সকাল ৯টায় পানি ৫১ দশমিক ৭৮ সেন্টিমিটার; যা বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। দুপুর ১২টায় পানি আরও দুই সেন্টিমিটার কমে ৫১.৭৬ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল; যা বিকাল ৩টা পর্যন্ত একই লেভেলে ছিল।

তিনি বলেন, মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা নদীর পানি ২২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পায়। পরে রাত ৯টায় আরও সাত সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে তিস্তা নদীর পানি ২৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।

অপরদিকে ভারতের দোমোহনী পয়েন্টে রাত ৯টায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার (৮৫.৯৫) ৩৬ সেন্টিমিটার (৮৫.৬৯) নিচ দিয়ে এবং মেখলিগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার (৬৫.৯৫) দশমিক ২০ সেন্টিমিটার (৬৬.১৫) উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানা যায়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, “উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে তিস্তার পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর জন্য কমলা সংকেত জারি করেছে। পাশাপাশি নদী তীরবর্তী এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”

এদিকে পানি বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় তিস্তা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেকেই নদীর পানি বৃদ্ধির খবর জানতে খোঁজখবর রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তবে তিস্তার পানি আরও বাড়তে থাকলে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, গয়াবাড়ী ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে বলে এলাকাবাসী জানায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here