যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনার পরবর্তী ধাপে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জাসিম আল-থানি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগামী দিনগুলোতে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে এই বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, কাতার পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের ফলপ্রসূ সহযোগিতা এবং একটি সুদৃঢ় পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক দেখতে চায়।
তবে এই আলোচনার আবহ তৈরি হলেও অতীতের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী। গত মার্চ মাসে কাতারের রাস লাফান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) হাবসহ অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ইরানের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, যুদ্ধের সময় কাতার এবং তাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর ওপর ইরানের এই ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য ছিল না।
লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময় আল-থানি লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং একে সঠিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন।
উল্লেখ্য, মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতারের পক্ষ থেকে এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনে সম্মত হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যকার এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার রাজনৈতিক তদারকি করবে। এই কমিটির অধীনস্থ আলোচক দলগুলো মূলত পারমাণবিক সমস্যা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বাস্তবায়নের বিভিন্ন উপায় নিয়ে কাজ করবে।
সূত্র: আল জাজিরা, সিএনএন

