মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন সুইজারল্যান্ডের তরুণ ফরোয়ার্ড জোহান মানজাম্বি। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে জোড়া গোল করে দলকে ৪-১ ব্যবধানে দারুণ এক জয় এনে দেন তিনি।
২০ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড জার্মান ক্লাব এসসি ফ্রেইবার্গের হয়ে খেলেন। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের ৭০তম মিনিটে মাঠে নামার পর খুব দ্রুতই নিজের প্রভাব দেখান। ৭৪তম মিনিটে প্রথম গোল করে সুইজারল্যান্ডকে এগিয়ে দেন, এরপর ম্যাচের শেষ দিকে আরও একটি গোল করে বড় জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
জেনেভায় জন্ম নেয়া মানজাম্বির পারিবারিক শিকড় অ্যাঙ্গোলা ও কঙ্গোতে। বহুসাংস্কৃতিক পটভূমি থেকে উঠে আসা এই ফুটবলার অল্প সময়েই ইউরোপীয় ফুটবলে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ইউরোপা লিগে নজরকাড়া পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ অনূর্ধ্ব-২১ খেলোয়াড়দের মধ্যে উয়েফার সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের সম্মানও অর্জন করেন তিনি।
২০২৩ সালে ফ্রেইবার্গে যোগ দেওয়ার পর এক বছর পরই ক্লাবটির মূল দলে জায়গা করে নেন মানজাম্বি। গত মৌসুমে ইউরোপা লিগে দলের ১৫টি ম্যাচেই অংশ নিয়ে করেন ২ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট, যা তাকে সুইস ফুটবলের অন্যতম সম্ভাবনাময় তারকায় পরিণত করেছে।
বসনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মানজাম্বি বলেন, বিশ্বকাপে খেলে গোল করা এবং ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা তার কাছে স্বপ্নপূরণের মতো। কোচের দেওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলের জন্য সর্বোচ্চ অবদান রাখার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি।
দুই গোলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা মানজাম্বি এখন ২০২৬ বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে আলোচিত তরুণদের একজন। আগামী ২৪ জুন টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচে কানাডার বিপক্ষে মাঠে নামবে সুইজারল্যান্ড, যেখানে আবারও তার দিকেই থাকবে সমর্থকদের বিশেষ নজর।

