৩৯ বছরে পা রাখার ঠিক আট দিন আগে, কানসাস সিটির মাঠে পা রেখেই নতুন এক ইতিহাস লিখলেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে তাঁর অনবদ্য হ্যাটট্রিক শুধু আর্জেন্টিনাকে জয়ই এনে দেয়নি বরং বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার পাশে বসিয়ে দিয়েছে তাঁকে। ১৬টি গোল নিয়ে মেসি এখন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
শুধু তা-ই নয়, এই ম্যাচটি ছিল জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর ২০০তম ম্যাচ। একই সঙ্গে ২০০৬ সালের ১৬ জুন সার্বিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম গোল করার ঠিক ২০ বছর পর, ২০২৬ সালের একই দিনে এসে আবারও বিশ্বকাপে গোল করার এক অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়লেন এলএমটেন। ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে মেসি জানান, এই রেকর্ডের চূড়ায় পৌঁছানো অবশ্যই গর্বের, তবে এটি কেবলই একটি পরিসংখ্যান মাত্র। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে সম্ভাব্য সব ট্রফি জেতার পর এখন যা-ই আসছে, তাকে বোনাস হিসেবেই দেখছেন এই ফুটবল জাদুকর।
আধুনিক ফুটবলের প্রযুক্তি এখন কতটা নিখুঁত, তা আবারও প্রমাণ করল এবারের বিশ্বকাপের অফিশিয়াল বল ‘অ্যাডিডাস ট্রিওন্ডা’। এই বলটিতে ব্যবহৃত ‘কানেক্টেড বল’ প্রযুক্তির মাধ্যমে মেসির প্রতিটি গোলের গতি, ঘূর্ণন এবং দূরত্বের পুঙ্খানুপুঙ্খ চুলচেরা বিশ্লেষণ সামনে এসেছে। ম্যাচের প্রথম গোলটি মেসি করেছিলেন ২১ মিটার দূর থেকে, যেখানে বলটি ০.৮ মিটারের একটি বাঁক নিয়ে ঘণ্টায় ১০৯.৪ কিলোমিটার গতিতে জালে জড়ায় এবং সে সময় বলটির সর্বোচ্চ ঘূর্ণন ছিল প্রতি সেকেন্ডে ১৬.৮ রেভোলিউশন। এরপর মাত্র ৮.৭ মিটার দূর থেকে ঘণ্টায় ৭১.২ কিলোমিটার গতিতে ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। সবশেষে ১৭.৫ মিটার দূরত্ব থেকে ঘণ্টায় ১০৬.৯ কিলোমিটার গতি এবং প্রতি সেকেন্ডে ৬.৬ রেভোলিউশনের এক নিখুঁত শটে নিজের ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। প্রযুক্তির এই আধুনিক যুগে মেসির প্রতিটি জাদুকরী শটের ভেতরের বিজ্ঞান যেন ফুটবল ভক্তদের আরও একবার মুগ্ধ করল।

