বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফ্রান্সের এই তারকা ফরোয়ার্ডের সামনে এবার একাধিক রেকর্ড ভাঙার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
মাত্র একটি গোল করলেই ফ্রান্স জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার কাতারে উঠে যাবেন তিনি। বর্তমানে অলিভিয়ের জিরুর সমান ৫৭ গোলে পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে এমবাপ্পের সামনে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতা জাস্ট ফন্টেইনের ১৩ গোলের রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেলবেন তিনি।
আর যদি চারটি গোল করতে পারেন, তাহলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মিরোস্লাভ ক্লোসের ১৬ গোলের রেকর্ডে পৌঁছে যাবেন এমবাপ্পে। বয়স, ফর্ম এবং ধারাবাহিকতা—সব মিলিয়ে এই কীর্তি গড়ার দৌড়ে এগিয়েই আছেন ফরাসি এই সুপারস্টার।
ফ্রান্সের আক্রমণভাগে উসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিসে থাকলেও মূল ভরসা এমবাপ্পেই। বড় ম্যাচে গোল করার অভ্যাসই তাকে আলাদা করে তুলেছে।
রাত ১টা বাজতেই শুরু হয়ে গেছে বহুল প্রতীক্ষিত ফ্রান্স বনাম সেনেগাল ম্যাচ। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গ্রুপ আই এর এই লড়াই ঘিরে বাড়তি উত্তেজনার কারণ ২৪ বছর আগের সেই স্মৃতি, যেখানে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল সেনেগাল।
২০০২ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল আফ্রিকার এই দল। পাপা বুবা দিয়পের সেই গোল আজও ফুটবলপ্রেমীদের মনে গেঁথে আছে। সেই স্মৃতি নিয়েই আবার মুখোমুখি দুই দল।
তবে এবার শুধু পুরোনো হিসাব নয়, সেনেগালের লক্ষ্য আরও বড়। তাদের লক্ষ্য বিশ্বকাপ জেতা। দলটির ভেতর থেকেই এমন আত্মবিশ্বাসী বার্তা এসেছে। আফ্রিকান ফুটবল এখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বলেই বিশ্বাস তাদের। ২০২২ বিশ্বকাপে মরক্কোর সেমিফাইনালে ওঠাকে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছে সেনেগাল।
বড় দলের বিপক্ষে নিজেদের প্রমাণ করার কথাও বলছে তারা। সাম্প্রতিক সময়ে ইংল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে জয় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। সেনেগালের ফুটবলারদের ভাষায়, তারা এখন আর কাউকে ভয় পায় না, চোখে চোখ রেখে লড়তে প্রস্তুত।
অন্যদিকে ফ্রান্সও থেমে থাকার দল নয়। ১৯৯৮ ও ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়নরা সবসময়ই শিরোপার দাবিদার। কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিসের মতো তারকাদের নিয়ে গড়া দলটি আক্রমণভাগে ভয়ঙ্কর। এমবাপ্পে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়ানোর অপেক্ষায়।
সেনেগালের দলে সাদিও মানে, ইদ্রিসা গেইদের অভিজ্ঞতা বড় ভরসা। কোচ পাপে থিয়াওর জন্য ম্যাচটি আরও বিশেষ, কারণ ২০০২ সালের ঐতিহাসিক জয়ের অংশ ছিলেন তিনিও।
এমন ম্যাচেই সাধারণত নিজের সেরাটা উজাড় করে দেন এমবাপ্পে। বড় মঞ্চে তার গতি, ফিনিশিং আর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ম্যাচের ভাগ্য ঘুরিয়ে দিতে পারে যে কোনো সময়।
তবে সেনেগালের শক্ত রক্ষণ ভাঙা সহজ হবে না, সেটাই বড় চ্যালেঞ্জ। সব মিলিয়ে চোখ এখন একদিকে এমবাপ্পে, অন্যদিকে সেনেগালের দেয়াল—এই দ্বৈরথেই নির্ধারিত হতে পারে ম্যাচের আসল গল্প।

