ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বর্তমান পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ ও বিস্ফোরক অবস্থায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজের লেখক ও কলামিস্ট গিডিওন লেভি।
তার মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে ইসরায়েল কৌশলগতভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক নতুন এক চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়িয়েছে।
কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লেভি বলেন, “শেষ পর্যন্ত এটা খুবই পরিষ্কার যে, এই খেলায় ইসরায়েলই কেবল ক্ষতির মুখে পড়েছে।”
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে- বিশেষ করে রিপাবলিকান পার্টি, হোয়াইট হাউস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেতরে- এমন অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছেন, যারা ইসরায়েলের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুলনায় আরও বেশি সমালোচনামূলক অবস্থান পোষণ করেন।
লেভির ভাষায়, “ট্রাম্পের আশপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা ইসরায়েল নিয়ে আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, যদি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটান, তাহলে ইসরায়েল এমন এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে, যা দেশটি আগে কখনও দেখেনি।
“নেতানিয়াহু যদি ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করতে সক্ষম হন, তাহলে ইসরায়েল এমন এক সংকটে পড়বে, যার চ্যালেঞ্জ আগে কখনও সামনে আসেনি। এর ফলাফল ও প্রভাব খুব অল্প সময়ের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে,” বলেন তিনি।
গিডিওন লেভির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে ইসরায়েলকে ঘিরে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটছে। তার দাবি, ওয়াশিংটনের কাছে ইসরায়েল এখন আর কেবল ঘনিষ্ঠ মিত্র নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে একটি কৌশলগত সমস্যা বা বাধা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্যক্তিগতভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ইসরায়েল এখন একটি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবং এখন থেকে ইসরায়েলকে সেই হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।” সূত্র: আল-জাজিরা

