বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে ব্রাজিলকে ১ ১ গোলে রুখে দিয়ে মরক্কো আবারও দেখিয়েছে তাদের কৌশলগত পরিপক্বতা। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে মরক্কোর ট্যাকটিক্সই ম্যাচের বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
মরক্কো শুরু থেকেই উচ্চ প্রেসিং কৌশল ব্যবহার করে ব্রাজিলের ডিফেন্সিভ লাইন ও মাঝমাঠে চাপ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে ব্রাজিলের ব্যাকলাইন থেকে বল বের করার সময় তারা দ্রুত দুই থেকে তিনজন খেলোয়াড় দিয়ে চাপ তৈরি করে, যার ফলে সেলেসাওদের বিল্ড আপ অনেক সময় থেমে যায়।
মাঝমাঠে মরক্কোর সংগঠিত অবস্থান ব্রাজিলকে ফাইনাল থার্ডে সহজে ঢুকতে দেয়নি। ব্রাজিল বল দখলে এগিয়ে থাকলেও কার্যকর পাসিং রিদম তৈরি করতে পারেনি, যার অন্যতম কারণ ছিল মরক্কোর ব্লকড ডিফেন্সিভ সেটআপ।
কাউন্টার অ্যাটাকে মরক্কো ছিল সবচেয়ে বেশি কার্যকর। দ্রুত বল আদান প্রদান করে তারা ব্রাজিলের ডিফেন্সকে বারবার অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলেছে। ২১তম মিনিটে তাদের গোলটিও এসেছে এমনই এক দ্রুত ট্রানজিশন থেকে, যেখানে ব্রাহিম দিয়াজের পাস ও সাইবারির ফিনিশিং ছিল নিখুঁত।
ডিফেন্সিভ সংগঠনে মরক্কো ছিল অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ। তারা বক্সের ভেতরে জায়গা কমিয়ে এনে ব্রাজিলের উইঙ্গারদের স্বাধীনতা সীমিত করে দেয়। ফলে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ছাড়া খুব বেশি জায়গা তৈরি করতে পারেনি ব্রাজিল।
অন্যদিকে ব্রাজিল কিছু সময় পজিশন ধরে রাখলেও মরক্কোর ব্লক ভাঙতে ব্যর্থ হয়। মাঝমাঠে কাসেমিরো ও গিমারায়েসদের ওপর চাপ তৈরি করে মরক্কো ম্যাচের টেম্পো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে।
ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের একক দক্ষতায় ব্রাজিল সমতায় ফিরলেও পুরো ম্যাচে মরক্কোর ট্যাকটিক্যাল ডিসিপ্লিনই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে দেখা গেছে। আনচেলত্তির দলের জন্য এটি ছিল কঠিন এক কৌশলগত পরীক্ষা।

