পুলিশি হেনস্তা ও নির্যাতনের ঘটনায় যা জানালেন ক্রিকেটার নাঈমের বাবা

0
পুলিশি হেনস্তা ও নির্যাতনের ঘটনায় যা জানালেন ক্রিকেটার নাঈমের বাবা

জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে হেনস্তা ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের খুলশী থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। বিষয়টি স্বীকার করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার আমিরুল ইসলাম।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে নাঈমের বাবা বলেন, ‘গত রাতে আমার ছেলেকে পুলিশ তুলে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে আমি দ্রুত থানায় যাই। ডিউটি অফিসার আমাকে প্রথমে থানায় ঢুকতেই দেননি; দূরে গিয়ে বসতে বলেন। পরে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে থানায় প্রবেশের সুযোগ পাই। জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় পাওয়ার পরও আমার ছেলেকে ন্যাক্কারজনকভাবে মারধর করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

থানায় এসে পরিচয় দেওয়ার পরও ওসি আরিফ হোসেন আমার ছেলেকে অপমানজনক কথা বলেছেন। পরে ঢাকা থেকে বিসিবি চেয়ারম্যান তামিম ইকবাল এবং পরিচালক ইসরাফিল খসরু সাহেবের ফোন পাওয়ার পর পুলিশ নমনীয় হয় এবং ভুল স্বীকার করে।’

এ ঘটনায় তিনি জড়িত পুলিশ সদস্যদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ ঘটনায় জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসান বলেন, ‘শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে আমার ফ্লাইট দেরি হওয়ায় চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে পৌঁছাই রাত সোয়া ১১টায়। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে রাত ১১টা ২৫ মিনিটের দিকে চান্দগাঁওয়ের বাসায় ফিরছিলাম। আমাকে বহনকারী অটোরিকশাটি লালখান বাজার ফ্লাইওভারের নিচে নামলে হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি গাড়িটি থামান। তারা কোনো ধরনের পরিচয় না দিয়ে আমাকে গাড়ি থেকে নামতে বলেন। 

অটোরিকশাচালকের কাছ থেকে গাড়ির কাগজপত্র ছিনিয়ে নেন। একপর্যায়ে তারা আমার গলা চেপে ধরে জোর করে আরেকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তোলার চেষ্টা করেন।’

নাঈম বলেন, ‘আমি মুঠোফোন বের করে শুধু বাবাকে ফোন করার চেষ্টা করছিলাম। তখনো আমার গলা চেপে ধরা ছিল। আমি চিৎকার করলে আশপাশের মানুষজন জড়ো হতে শুরু করেন। শতাধিক মানুষ সেখানে উপস্থিত হন। অনেকেই আমার পরিচয় জানার পর বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করেন। আমি নিজের পরিচয় দিয়েছি, আইডি কার্ড দেখিয়েছি। তারপরও তারা আমাকে ‘আসামি’ বলে সম্বোধন করে এবং কথা বলতে নিষেধ করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরে পুলিশ আমাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে খুলশী থানায় নিয়ে যায়। সেখানে আমাকে ওসির কক্ষে দাঁড় করিয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে বলা হয়। পরে কারো ফোন আসার পর আমাকে বসতে বলা হয়। মানুষ আমাকে চিনত বলেই আজ বেঁচে গেছি। আমার জায়গায় কোনো সাধারণ মানুষ থাকলে তার কী হতো? তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হতো, সেটি কেউ জানত না। একজন সাধারণ নাগরিক যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছেই নিরাপদ না থাকেন, তাহলে এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয়।’

সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছি। প্রাথমিক অনুসন্ধানে কিছু অসংগতি ও প্রক্রিয়াগত ত্রুটির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তদন্তে এসব বিষয় নিশ্চিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ যদি তার কর্মকাণ্ডের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে চান্দগাঁওয়ের বাসায় ফিরছিলেন নাঈম। পতেঙ্গা থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে উঠে লালখান বাজার এলাকায় নেমে আরেকটি ফ্লাইওভারে ওঠার কথা ছিল তার। দুই ফ্লাইওভারের মাঝামাঝি এলাকায় পুলিশ তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামিয়ে হেনস্তা ও নির্যাতন করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here