কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক সম্ভাব্য পুশইনের আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বিএসএফের যেকোনো ধরনের পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
বুধবার রাত থেকে রৌমারী সীমান্ত এলাকায় বিজিবি, আনসার, গ্রাম পুলিশ এবং স্থানীয় তরুণ-যুবকসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ পাহারায় অংশ নেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রৌমারী সীমান্তে বিএসএফ একাধিকবার পুশইনের চেষ্টা করলেও বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সতর্ক অবস্থানের কারণে তা সফল হয়নি।
সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার খেওয়ারচর সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬৯ নম্বর মেইন পিলারের ২৪ নম্বর সাব-পিলারসংলগ্ন ভারতের সদরটিলা বিএসএফ ক্যাম্পের কাছে কাঁটাতারের বেড়ার পাশে ট্রাকে করে কয়েকজন ভারতীয় মুসলিম নাগরিককে জড়ো করা হয়েছে। তাদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা হতে পারে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় মাইকিং করা হয়।
খবর পেয়ে শত শত মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেন। সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ ঠেকাতে গ্রামবাসীরা সীমান্তজুড়ে পাহারা শুরু করেন। একই সঙ্গে বিজিবিও সীমান্তে টহল ও নজরদারি বাড়ায়।
খেওয়ারচর বিজিবি ক্যাম্পের ল্যান্স নায়েক সুমন আলী বলেন, পুশইন ঠেকাতে সাধারণ জনগণের পাশাপাশি বিজিবি সদস্যরাও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। কোনো ধরনের পুশইন বরদাশত করা হবে না। এর আগেও বিএসএফ কয়েক দফা চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। এবারও তারা সফল হতে পারেনি।
উল্লেখ্য, গত শনিবার থেকে বুধবার রাত পর্যন্ত রৌমারী সীমান্তে সম্ভাব্য পুশইনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে বিজিবি।

