যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

0
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানো নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি। তিনি অভিযোগ করেছেন, দেশের নিরাপত্তা চাহিদা পূরণে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দে সরকার যথেষ্ট প্রতিশ্রুতি দেখাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেন জন হিলি। চিঠিটি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশ করেন।

চিঠিতে জন হিলি বলেন, বর্তমান সময়ে যখন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং হুমকি বাড়ছে, তখন দেশকে সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় অর্থ ও সম্পদ দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থ মন্ত্রণালয় যথেষ্ট উদ্যোগ নেয়নি।

তিনি লিখেছেন, “দেশকে রক্ষার জন্য যে সম্পদের প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করতে আপনি সক্ষম হননি এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ও প্রয়োজনীয় প্রতিশ্রুতি দিতে অনিচ্ছুক ছিল।”

ব্রিটেনে প্রতিরক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কয়েক মাস ধরে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা চলছিল। কিন্তু প্রতিরক্ষা খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনা গত বছর থেকেই চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।

এই বিলম্বে দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ার সময়ে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের প্রতিরক্ষা দায়িত্ব থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দেওয়ার পরও দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রকল্পে বিনিয়োগের বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না থাকায় তারা সমস্যায় পড়ছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ, ইউরোপের নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ব্রিটেনের ওপর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপ তৈরি হয়েছে। তবে একই সময়ে দেশটির অর্থনৈতিক চাপ ও সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের নীতির কারণে অর্থ বরাদ্দ নিয়ে টানাপোড়েন চলছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে জন হিলির পদত্যাগ প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের সরকারের জন্য নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে ব্রিটেনের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here