থোকায় থোকায় দুলছে লটকন, ১০ লাখ টাকা বিক্রির আশা

0
থোকায় থোকায় দুলছে লটকন, ১০ লাখ টাকা বিক্রির আশা

হলুদ রঙের ছোট ছোট গোলাকার ফল লটকন। যেন গাছজুড়ে ঝুলে থাকা সোনার বল। সবুজ পাতার ফাঁকে থোকা থোকা ফলগুলো দেখলে মনে হয় প্রকৃতি নিজ হাতে সোনালি অলংকারে গাছটিকে সাজিয়েছে। রোদ পড়ে যখন ফলের গায়ে ঝিলিক খেলে যায়, তখন সেগুলো আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। লটকনের একেকটি থোকা যেন সোনালি মুক্তোর মালা। 

লটকন ফলের এমন সুন্দর দৃশ্য চোখে পড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী আজমপুর নোয়ামোড়া ফল বাগানে (সাবেক আর্মি বাগান)। এ বাগানে চারশো’র বেশি  লটকন গাছ রয়েছে।  এ বছর দশ লাখ টাকার লটকন বিক্রির আশা করছেন উদ্যোক্তা হাজী আব্দুল বারী। 

বাগান মালিকের সাথে কথা বলে জানা যায়, ৩০০ শতক মিশ্র ফলের বাগানে, আম, কাঁঠাল, লটকন, পেপে,  জাম্বুরা, সফেদা, রাম্বুটানসহ বিভিন্ন ফলের গাছ রয়েছে। এরমধ্যে চারশোর বেশি লটকন গাছ আছে। পাকা লটকন সুস্বাদু  মিষ্টি। কাঁচা অবস্থায় কিছুটা টক লাগে। 

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গাছের গোড়া থেকে ডালপালায় থোকায় থোকায় প্রচুর লটকন ঝুলে আছে। হলুদ, কাঁচা হলুদ রংয়ের গোলাকার ছোট্ট ফল গুলো দেখতে মনে হয় যেল সোনার বল। 

বাগান মালিক হাজী আব্দুল বারী বলেন, লটকন চাষে তেমন বেশি পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। কম পরিশ্রমে কম খরচে  ভালো ফলন পাওয়া যায়।  ৪ জন শ্রমিক বাগান পরিচর্যায় নিয়োজিত আছে। তিনি আরও বলেন, এ বছর ভালো লটকন এসেছিল তবে ঝড়-বৃষ্টিতে কিছু  লটকন পড়ে গেছে। একেকটি গাছে ৪০/৫০ কেজির মত লটকন এসেছে। ইতোমধ্যে বিক্রি শুরু করেছি। এখন ১০০/১২০ টাকা কেজি বিক্রি করা যায়। পাইকাররা বাগানে এসে নিয়ে যায়। এবছর ১০/১২  লক্ষ টাকার বিক্রি করার আশা করছি।

আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জুয়েল রানা বলেন, লটকন একটি পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ফল। লটকনে ভিটামিন সি, ক্যালরি, কার্বোহাইড্রেড, আঁশ রয়েছে। আখাউড়া উপজেলা উপজেলার মাটি লটকনের জন্য উপযোগী। কম পুঁজি ও পরিশ্রমে বেশি লাভবান হওয়া যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here