নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশু রোগীর মাকে ধর্ষণে অভিযুক্ত তিন সুইপার (পরিচ্ছন্নতাকর্মী) গ্রেফতারের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালে সিসিটিভি থাকার পরও কিভাবে এমন ঘটনা ঘটলো তা দ্রুত তদন্ত করতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। আগামী পাঁচ কার্য দিবসের মধ্যে তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুরে নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ মশিউর রহমান তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তদন্তের স্বার্থে কমিটির সদস্যদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। তবে এর মধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের বাহির থেকে দুইজন কর্মকর্তা ও হাসপাতালের একজনকে তদন্ত কমিটিতে রাখা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, গত রবিবার রাত ১০টার হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি দুই বছর বয়সী এক কন্যা শিশুর মাকে ওষুধ দেওয়ার কথা বলে ডেকে হাসপাতালের লিফটে ছয়তলার সিঁড়ি ঘরে নিয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী অমিত(২৩) জোর করে তাকে ধর্ষণ করে। এসময় পরিচ্ছন্নতাকর্মী অনিল ও প্রাঙ্গন ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে এবং সেই নারীকে সেখানে আটকে রেখে ভিডিও দেখিয়ে আবারো ধর্ষণ করতে জোরাজুরি করতে থাকে। মায়ের অনুপস্থিতিতে শিশুটির চিৎকারে রাত দুইটার দিকে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হাসপাতালের আনসার সদস্যরা হাতেনাতে অভিযুক্তদের ধরে ফেললেও, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তাদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে নাটোর সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযুক্ত তিন পরিচ্ছন্নতাকর্মী শহরের আলাইপুরের সুইপার কলোনীর বাসিন্দা অমিত (২৩), অনিল (২৪) এবং প্রাঙ্গনকে (২৩) গ্রেফতার করে।
এদিকে নাটোর সদর থানার ওসি মো. মনসুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী নারীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে এবং ডাক্তারি পরীক্ষা (ডিমেনশন) সম্পন্ন করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে সিসিটিভি ফুটেজ। ওসি বলেন, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। অপরাধী যেই হোক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, কর্তৃপক্ষ শুরুতে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি। বর্তমানেও ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে তারা জানিয়েছেন। গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তদের রিমান্ডে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

