ভিটে বিক্রি করেও মুক্তি মেলেনি লিবিয়ায় জিম্মি ফয়সলের!

0
ভিটে বিক্রি করেও মুক্তি মেলেনি লিবিয়ায় জিম্মি ফয়সলের!

উন্নত জীবনের স্বপ্নে পাড়ি জমিয়েছিলেন প্রবাসে। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন দু:স্বপ্নে পরিণত হয়েছে, সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার তরুণ ফয়সলের। লিবিয়ায় মানবপাচারকারী চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে, অমানবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তিনি। মুক্তিপণ জোগাতে পরিবার সর্বস্ব বিক্রি করে টাকা দিলেও, এখনও মুক্তি মেলেনি তার। এ অবস্থায় তাকে ফিরিয়ে আনতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছে অসহায় পরিবার।

সরেজমিন ফয়সলের গ্রামের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের সাতপাড়া গ্রামে যাওয়া হয়। তিনি ওই গ্রামের মদরিস আলীর ছেলে। কথা হয় তার মমতাময়ী মা মিনারা বেগমের সাথে।

তিনি ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’কে জানান, দেশে এসএসসি পাশ করার পর বিশ্বনাথ ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হলেও আর পড়া-লেখা করা হয়নি ফয়সলের। ২০২৩ সালে গ্রামের একজনের মাধ্যমে পাড়ি জমান লিবিয়ায়। দীর্ঘদিন সেখানে অবস্থানের পর, সম্প্রতি মনস্থির করেন ইউরোপের কোন একটি দেশে যাওয়ার। তখন চুক্তি হয় নবীগঞ্জের এরশাদ আলী নামের এক দালালের সাথে। সে তাকে অবৈধ পথে পাঠানোর জন্য ‘লিবিয় গেইম-এ যুক্ত করে। 

এ অবস্থায় তিনি আটক হন লিবিয়া পুলিশের হাতে। এক পর্যায়ে তাদের কাছ থেকে তাকে কিনে নেয় মানবপাচারকারী চক্র (মাফিয়া চক্র)। এরপর থেকেই ফয়সলকে জিম্মি করে ভিডিও কলে মুক্তিপণ চাওয়া হয় ২৫ লাখ টাকা। একদিন পর ভিডিও কলে তাকে নির্যাতনের চিত্র দেখিয়ে টাকা পাঠানোর তাগদা দিতে থাকে তারা। অনেক আহাজারির পর ৬ লাখ টাকায় মুক্তি দিতে রাজি হলে, পরিবার শেষ সম্বল ভিটে-মাটি বিক্রি করে, দালালের দেওয়া দেশীয় বিকাশ নাম্বারে তা পাঠানো হয়। 

তবে এ টাকা পেয়ে, মুক্তি না দিয়ে বাকী টাকার জন্য ফের নির্যাতন শুরু করে ফয়সলকে। এ অবস্থায় ফয়সলের নিরুপায়-অসহায় মায়ের চাওয়া, যে কোন মূল্যে বুকের মানিক যেন ফিরে আসে। এ জন্যে সকলের সহযোগিতাও চেয়েছেন তিনি।

স্থানীয় দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হাফিজ আরব খান জানান, ফয়সলকে মুক্ত করতে তার পরিবার বাড়ি বিক্রি করে মুক্তিপণ দিয়েছে। তবুও মাফিয়া চক্র তাকে মুক্তি দেয়নি। বিষয়টি আমরা থানা পুলিশকেও অবগত করেছি।

এ বিষয়ে কথা হলে বিশ্বনাথ পুলিশ স্টেশনের অফিসার ইনচার্জ গাজী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে ভুক্তভোগীর পরিবারকে থানায় আনা হয়েছিলো। দেশের যে বিকাশ নাম্বারে টাকা লেনদেন হয়েছে, তার সূত্র ধরে বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here