লিবিয়ায় অপহরণের আড়াই মাস পর নওগাঁর প্রবাসী আলমগীরের মৃত্যুর খবর

0
লিবিয়ায় অপহরণের আড়াই মাস পর নওগাঁর প্রবাসী আলমগীরের মৃত্যুর খবর

নওগাঁর মান্দা উপজেলার নুরুল্লাবাদ গ্রামের প্রবাসী যুবক আলমগীর হোসেন (৪৫) লিবিয়ায় অপহরণের শিকার হওয়ার প্রায় আড়াই মাস পর তার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পরিবারের দাবি, গত ২৮ মার্চ সন্ধ্যায় কর্মস্থল থেকে পুলিশের পোশাক পরিহিত একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

নিহত আলমগীর হোসেন উপজেলার নুরুল্লাবাদ গ্রামের মৃত দিদার বক্স খাঁনের ছেলে। তিনি দীর্ঘ সাত বছর ধরে লিবিয়ায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

আলমগীরের ভাই লিবিয়াপ্রবাসী জিল্লুর রহমান জানান, তার ভাই ত্রিপোলির তাজুরা ডিসি পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। গত ২৮ মার্চ মাগরিবের নামাজের পর কর্মরত অবস্থায় পুলিশের পোশাক পরিহিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী মাইক্রোবাসে করে তাকে তুলে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘‘ভাইকে উদ্ধারের জন্য লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি হয়নি। যে আস্তানায় তাকে আটকে রাখা হয়েছিল, সেখানে আরও ৩১ জন বাংলাদেশিকে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল।’’

জিল্লুর রহমান আরও জানান, জিম্মিদের মধ্যে পাঁচজন মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি পান। আলমগীরের কাছেও ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। তবে তিনি ওই অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় অন্তত এক মাস আগে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে উদ্ধার হওয়া জিম্মিদের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন তারা।

তার ভাষ্য, সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় মুক্ত হওয়া কয়েকজন জিম্মির কাছ থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়। তাদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা একটি ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা আলমগীরের মরদেহ শনাক্ত করেন। বর্তমানে তার মরদেহ উদ্ধার এবং দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে।

নিহত আলমগীরের স্ত্রী শাহিনা আক্তার বলেন, ‘‘আমার স্বামীই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ২৮ মার্চ কাজে যাওয়ার আগে শেষবারের মতো তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়েছিল। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আমাদের কাছে মুক্তিপণও দাবি করেনি। সোমবার রাতে তার মৃত্যুর সংবাদ পেয়েছি।’’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তার স্বামীর মরদেহ দ্রুত উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।

এদিকে, আলমগীর হোসেনের মৃত্যুর খবরে নুরুল্লাবাদ গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও এলাকাবাসী বাংলাদেশ দূতাবাস এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here