কে পেতে পারে ‘ডার্ক হর্স’ তকমা?

0
কে পেতে পারে ‘ডার্ক হর্স’ তকমা?

দরজায় কড়া নাড়ছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। ফুটবল মহোৎসবের বাকি আর মাত্র দুই দিন। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে বিশ্বসেরা ফুটবলাররা ইতিমধ্যেই পৌঁছাতে শুরু করেছেন আয়োজক দেশগুলোতে। সাড়ে পাঁচ সপ্তাহের এই ফুটবল যুদ্ধ দেখতে মুখিয়ে আছে গোটা বিশ্ব। কেউ খেলবেন গ্রুপ পর্বের গণ্ডি পার হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে, আবার বড় দলগুলোর কাছে শিরোপা ছাড়া অন্য যেকোনো ফলই হবে চরম ব্যর্থতা। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফুটবলবিষয়ক জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘গোল’-এর লেখক ও সম্পাদকেরা মেতেছেন ভবিষ্যদ্বাণীতে। তাদের চোখে এবার টুর্নামেন্টের ‘ডার্ক হর্স’ (অপ্রত্যাশিতভাবে চমক দেখাতে পারে) কোন দলগুলো?

গোপন শত্রু হিসেবে এবার অনেকের চোখ নরওয়ের দিকে। দীর্ঘ দিন পর বিশ্বকাপে ফেরা দলটির বড় শক্তি বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। গোলের মার্ক ডয়েল এবং রায়ান টলমিচের মতে, হালান্ডের মতো একজন বিধ্বংসী স্ট্রাইকার একাই যেকোনো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। মার্টিন ওডেগার্ড, অস্কার ববদের মতো একঝাঁক প্রতিভাবান তরুণকে নিয়ে গড়া নরওয়েকে এবারের টুর্নামেন্টে সমীহ করবে সবাই। গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হতে পারলে নকআউট পর্বে নরওয়ে বড় দলগুলোর জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

অন্যদিকে, কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কোকে নিয়ে আবারও বড় স্বপ্ন দেখছেন কৃষণ ডেভিস। আশরাফ হাকিমি, ব্রাহিম দিয়াজের মতো তারকাদের নিয়ে গড়া মরক্কো এবারও বিশ্বমঞ্চে আরেকটি রূপকথা লিখতে পুরোপুরি প্রস্তুত। আবার ফ্রান্স এবং নরওয়ের মতো কঠিন প্রতিপক্ষের সাথে একই গ্রুপে থাকলেও সেনেগালকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ দেখছেন না স্টিফেন ডারউইন। সাদিও মানে, ইসমাইলা সার ও নিকোলাস জ্যাকসনদের নিয়ে গড়া সেনেগালের আক্রমণভাগ যেকোনো রক্ষণভাগ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম।

ইউরোপের অন্যতম ধারাবাহিক দল সুইজারল্যান্ডকে নিয়েও আশাবাদী আমি রুজকাই। অভিজ্ঞতায় ঠাসা সুইসরা গত ইউরোতেই কোয়ার্টার ফাইনালে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে। এবারও ফেভারিটদের স্তব্ধ করে টুর্নামেন্টের অনেক দূর যাওয়ার সামর্থ্য রাখে তারা। এশিয়ার পরাশক্তি জাপানের ওপর বাজি ধরছেন ক্রিস বার্টন। দুর্দান্ত হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলা ব্লু সামুরাইরা বাছাইপর্বে মাত্র একটি ম্যাচ হেরেছে। তাছাড়া উইঙ্গার তাকেফুসা কুবো এবং নেদারল্যান্ডসে গোলবন্যা বশ করা আয়াসে উয়েদাকে নিয়ে যেকোনো পরাশক্তিকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারে জাপান।

তবে ল্যাটিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়াকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি রোমাঞ্চিত টম হিন্ডল এবং টম ম্যাসটন। ২০২৪ কোপা আমেরিকার ফাইনালে খেলা দলটি লুইস দিয়াজ ও অভিজ্ঞ হামেস রদ্রিগেসের হাত ধরে দারুণ ছন্দে রয়েছে। উত্তর আমেরিকার চেনা আবহাওয়া এবং গ্যালারিতে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী দর্শকের সমর্থন কলম্বিয়াকে বাড়তি সুবিধা দেবে। এমনকি ব্রাজিলের বর্তমান দলটিকে নিয়ে প্রত্যাশার চাপ কম থাকায় তাদেরও ডার্ক হর্সের তালিকায় রাখছেন অ্যালেক্স লাবিডো। সব মিলিয়ে, ফেভারিটদের ভিড়ে এই দলগুলোর যেকোনো একটি যদি এবার বিশ্বকাপের ট্রফি বা সেমিফাইনালের মঞ্চে জায়গা করে নেয়, তবে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here